বলিউডে মুসলমানদের ‘ছকেবাঁধা’ উপস্থাপন

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১, ০৪:৩৩ পিএম

বলিউডে মুসলমানদের ‘ছকেবাঁধা’  উপস্থাপন

ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের দৌড়াত্ম্যে মুসলমানদের যে অস্তিত্ব সঙ্কট বিরাজমান, তা ক্রমেই হিন্দি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। অতীতে সিনেমায় মুসলমানদের শাসক, কবি বা শৈল্পিক চরিত্রে দেখানো হতো, কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ সময়ই তাদের সন্ত্রাসী, জঙ্গি, মাফিয়া বা স্বৈরশাসক হিসেবে দেখানো হয়।

তাদের আবশ্যকভাবে বিশেষ ভঙ্গিতে উপস্থাপণ করা হয়। যেমন: চোখে সুরমা লাগানো,বড় দাড়িওয়ালা, গলায় তাবিজ পরা বিশ্বাসঘাতক, যিনি পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীকে ভারত আক্রমণে সহায়তা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কারনিগি মেলন ইউনিভার্সিটির কুনাল খাদিলকার এবং আশিকুর খুদাবক্স ১৯৫০ থেকে ২০২০- এই সাত দশকের প্রত্যেকটি দশক থেকে ১০০টি করে ব্যবসা-সফল ছবি বাছাই করে সেগুলোর ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে ভারতীয় ছবিতে জাতপাতের বিষয় রয়ে গেছে। সিনেমায় ডাক্তার চরিত্রের নামের পদবী বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে এই নামগুলো উচ্চ-বর্ণের হিন্দুদের।

ছবিতে অন্যান্য ধর্মের লোকজনের প্রতিনিধিত্ব বাড়লেও ভারতে সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব তাদের জনসংখ্যার হিসেবে বৃদ্ধি পায়নি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় মিস গুপ্তা প্রায়শই চলচ্চিত্রে পশ্চাৎপদতা, নারীর প্রতি ঘৃণা এবং পুরুষতান্ত্রিক বিষয়াবলী নিয়ে কলাম লিখে থাকেন। তিনি বলেন, বলিউডের বীর নায়কের নাম অবশ্যই হবে একটি হিন্দু নাম, মুসলিমদের যেভাবে চিত্রিত করা হয় সেটা সীমিত এবং সস্তা ও গতানুগতিক।

নিঃসন্দেহে বর্তমান সময়ের অনেক সিনেমা ও ওয়েব সিরিজ দ্বারা ইসলামফোবিয়া সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং যুদ্ধ সম্পর্কিত ছবিগুলোতে এটি বেশ স্পষ্ট।

সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে বহিরাগত লুটেরাদের মুসলিম হিসাবে চরিত্রায়ন করা হয়। ১৯২০ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং হিন্দু মহাসভার দেওয়া মুসলিম বিরোধী বক্তব্যই যেন এসব ছবিতে ফুটিয়ে তোলা হয়।

এগুলোতে মোটা দাগে দেখানো হয় ভারতীয় ও মুসলমান এক জাতি না। অর্থাৎ, মুসলমানদের সাথে ভারতের সম্পর্ক বিপরীতার্থক।

সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ভুজ: দ্য প্রাইড অফ ইন্ডিয়াতে মুঘলদের ‘বহিরাগত’ বলা হয়, এবং সিনেমার বিভিন্ন সংলাপে তাদের গালিগালাজ করা হয়।

এছাড়া হাল-আমলে সঞ্জয় লীলা বানশালির বাজিরাও মাস্তানি বা পদ্মাবতীর মতো ব্যবসাসফল ছবিতেও মুসলিমদের অতীত ইতিহাস ও ভারতীয়দের সাথে মুসলিম জাতির দ্বান্দ্বিকতা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘রিপ্রেজেন্ট’ করা হয়েছে।

আর ২০০০ সালের পর থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত বেশ কিছু ছবিতে মুসলমানদের ভয়াবহ ও বিধ্বংসী চরিত্রের আধুনিক সংস্করণ দেখানো হয়। যেমন: জয়া আখতারের পরিচালিত গাল্লি বয়, শাহীদ, সিক্রেট সুপারস্টার, মুলক,নকশা প্রভৃতি।

যেসব ইতিবাচক চরিত্রে মুসলমানদের দেখানো হচ্ছে তাও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিতর্কিত। হতে পারে তাদের পোড় খাওয়া মধ্যবিত্ত বা ভাগ্যান্বেষণে পথে পথে ঘোরা মানুষের শ্রেণিতে দেখানো হয়। উচ্চবিত্ত হিসাবে দেখানো হয় নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরিতে। যেমন: মুসলিম গ্যাংস্টার, জঙ্গি অথবা স্বাধীণতা যুদ্ধের দেশপ্রেমিক।

সূত্র: স্ক্রল ডট ইন।

Link copied!