আগস্ট ৬, ২০২২, ০৫:৩৬ পিএম
বলিউড তারকা আমির খান মানেই ব্যতিক্রমী কিছু। তাঁকে বলা হয় ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট।’ সিনেমা যে একটি শিল্প, আমিরের কাজ দেখেই তা বুঝা যায়। খুব বেছে বেছে কাজ করেন তিনি। এ কারণে তাঁর কাজের পরিমাণও কম। এবার সেই আমির খানকে দীর্ঘ বিরতির পর আবার পর্দায় দেখা যাবে। ১১ আগস্ট মুক্তি পেতে যাচ্ছে তাঁর বহুল আলোচিত ছবি ‘লাল সিং চাড্ডা।’

১৯৯৪ সালের অস্কার পাওয়া ছবি ‘ফরেস্ট গাম্প’ থেকে গল্প নিয়েই আবর্তিত হবে লাল সিং চাড্ডা। ফরেস্ট গাম্প ভুবনবিখ্যাত এক মুভি। অস্কার জয়ই নয় শুধু, টম হ্যাঙ্কস অভিনীত এই হলিউড ছবি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মনও জয় করে নিয়েছে সেই কবেই। সেই গল্প নিয়ে আবার দ্বিতীয় ছবি? ভাবতেই পারেননি আমির খান। এদিকে লাল সিং চাড্ডা নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিতর্কের শুরু গত কয়েকদিন ধরেই। টুইটারে এখন ট্রেন্ড করছে ‘বয়কট লাল সিং চাড্ডা’।
২০১৫ সালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আমির খানকে বলতে শোনা গিয়েছিল, খবরের কাগজ পড়ে এবং টিভি দেখে তিনি আতঙ্কিত। দেশ জুড়ে অসিহষ্ণুতার পরিবেশ নিয়ে ভীত তাঁর স্ত্রী কিরণ রাও-ও (তৎকালীন)। বস্তুত কিরণ এবং তিনি এতটাই আতঙ্কিত যে দেশ ছেড়ে চলে যেতে চাইছেন ছেলেকে নিয়ে।
‘লাল সিং চাড্ডা’ মুক্তির আগে আমিরের এই মন্তব্যের রেশই ফের কার্যকর হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেট-নাগরিকরা লিখতে শুরু করেছেন, ভারত দেশকে যখন এতই অপছন্দ তাহলে কেন এখানে নিজের ছবি মুক্তি দিচ্ছেন! সঙ্গে জোরদার চলছে সিনেমা বয়কট করার ডাক। আমির খান ইতিমধ্যেই আবেদন করেছেন, তাঁকে সবাই ভুল বুঝছে। সাথে অনুরোধ করেছেন, যেন সকলে সিনেমা হলে দেখতে যায় লাল সিং চাড্ডা।
এদিকে ছবি মুক্তির আগে স্ক্রিনপ্লে রাইটার অতুল কুলকার্নি চাড্ডার প্রেক্ষাপট জানিয়েছেন সাংবাদিকদের। তিনি বলেন, যখন ‘লাল সিং চড্ডা’-র চিত্রনাট্য নিয়ে আমিরের কাছে গেলেন, শুরুতেই ‘না’ করে দিতে যাচ্ছিলেন আমির। তারপর জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘১৫ দিনে স্ক্রিপ্ট লিখে ফেললে! এ-ও কি সম্ভব!’ অতুল তখন বলেছিলেন, ‘প্লিজ, আমার কথা শুনে দেখো আগে।’

বছর ঘুরে যায়। কাজে-অকাজে দু'জনের প্রায়ই দেখা হচ্ছে কিন্তু চিত্রনাট্য পড়ার বিষয়ে আমির আর কিছুই জানান না। শেষে থাকতে না পেরে অতুল নিজেই প্রসঙ্গ তুললেন। তাঁর কথায়, ‘কয়েক বছর পর ওকে জিজ্ঞেস করলাম, আমরা কবে স্ক্রিপ্ট নিয়ে বসছি? আমির বললো, তুমি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে তোমায় হতাশ করতে চাইনি। কিন্তু আমার বিশ্বাস, তুমি এতো ভালো লিখতে পারো না যাতে ১৫ দিনের মধ্যেই ‘ফরেস্ট গাম্প’ নিয়ে দ্বিতীয় আর একটি চিত্রনাট্য তৈরি হয়ে যাবে! তাই আমি শুনবোও না তোমার কথা।’
এর পর অতুল আবার অনুরোধ করেন, ‘তুমি একটিবার শুধু স্ক্রিপইট পড়েই দেখো না। এরপর যা খুশি বলো। স্ক্রিপ্ট ছুড়ে ফেলে দাও, কিছু মনে করব না। কিন্তু না পড়ে বোলো না।’
সেই যে আমির স্ক্রিপ্ট পড়লেন, ভালো লেগে গেলো তাঁর। অতুলেরই চিত্রনাট্য। প্যারামাউন্ট-এর থেকে ‘ফরেস্ট গাম্প’ এর স্বত্ব কিনতে লেগেছিল আরও ১০ বছর।
‘লাল সিং চাড্ডা’-র নির্মাণে এতখানি দেরি কেনো— এমন প্রশ্ন ওঠায় এই নেপথ্যকাহিনি ভাগ করে নিয়েছিলেন চিত্রনাট্যকার অতুল।
তারপর বলেন, ‘অবশ্যই চিত্রনাট্যের চেয়েও বেশি কৃতিত্ব আমিরের। চরিত্রটি শিখ। তবে আমি সমস্ত সংলাপ হিন্দিতে লিখেছিলাম। কিন্তু আমির আর অদ্বৈত (পরিচালক) মনে করেছিলেন, পাঞ্জাবি ভাষাতেই সংলাপ বলা উচিত। তাই আমার সংলাপগুলো পঞ্জাবি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল।’
আগামী ১১ অগস্ট মুক্তি পেতে চলেছে ‘লাল সিং চাড্ডা’। ছবি নিয়ে উৎকণ্ঠা তো রয়েছেই। অদ্বৈত চন্দন জানান, এ ছবি বক্স অফিস মাতাতে পারবে কি পারবে না, সেটা পরের কথা। তবে নির্মাণের অধ্যায়টুকু আমাদের মনে থাকবে।