ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমানের মরদেহ দেশে আনা হচ্ছে আজ রবিবার। দুপুরের পর টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির উপ-মহাসচিব কবিরুল ইসলাম রানা।
তিনি বলেন, ‘আজিজ সাহেবের মরদেহ রবিবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছাবে। আমরা সেখানে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ এফডিসিতে নিয়ে যাবো। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ মাগরিব এফডিসিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে তার গ্রামের বাড়িতে।’
জানা গেছে, কানাডার টরন্টোর স্কারবোরোতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে আজিজুর রহমানের প্রথম জানাজা হয়েছে। এফডিসি থেকে তার মরদেহ নেওয়া হবে ধানমন্ডির বাসায়। সেখানে বায়তুল আমান জামে মসজিদে বাদ মাগরিব আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর সোমবার (২১ মার্চ) হেলিকপ্টারে মরদেহ নেওয়া হবে আজিজুর রহমানের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার সান্তাহারে। সেখানে এই কিংবদন্তি নির্মাতার ইচ্ছায় তার মায়ের কবরে তাকে চিরশায়িত করা হবে।
আজিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট ও বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। শেষ এক বছর কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া চলাফেরা করতে পারতেন না। তিনি প্রায় এক যুগ ধরে স্ত্রীসহ কানাডায় তার দুই সন্তানের সঙ্গে থাকতেন। গত শনিবার (১৪ মার্চ) কানাডার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ‘ছুটির ঘণ্টা’খ্যাত এই পরিচালক।
অনেক সফল চলচ্চিত্রের পরিচালক আজিজুর রহমান। ১৯৫৮ সালে ‘এ দেশ তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে এহতেশামের সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ময়মনসিংহের লোককথা নিয়ে ‘সাইফুল মূলক বদিউজ্জামান’ মুক্তি পায় ১৯৬৭ সালে। এখন পর্যন্ত তিনি ৫৪টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘অশিক্ষিত’, ‘মাটির ঘর’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘সাম্পানওয়ালা’, ‘ডাক্তার বাড়ি’, ‘গরমিল’ ও ‘সমাধান’ ইত্যাদি।