মিশন ইম্পসিবলখ্যাত নায়ক টম ক্রুজ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ৩, ২০২১, ১২:৫৪ পিএম

মিশন ইম্পসিবলখ্যাত নায়ক টম ক্রুজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রখাত অভিনেতা ও প্রযোজক টম ক্রুজের জন্মদিন আজ ৩ জুলাই। ১৯৬২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম টমাস ক্রুজ ম্যাপোথার চতুর্থ। বাবা প্রকৌশলী, মা শিক্ষিকা।

বাবার চাকরির সুবাদে টম ক্রুজ শৈশৈবে কানাডায় কয়েক বছর কাটিয়েছেন। রবার্ট হপকিনস পাবলিক স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় নাটকে জড়িযে পড়েন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের একজন টম ক্রুজ। 

টম ক্রুজ নামটা শুনলেই হলিউড চলচ্চিত্র পাগল দর্শকদের চোখের সামনে হয়তো  ভেসে উঠবে কাটকাট মারমার অ্যাকশন দৃশ্য।  হয়তোবা দেখা যাবে টম  উড়োজাহাজের চাকা ধরে ঝুলছেন, আবার কথনও  উঁচু ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিচ্ছেন। আবার কখনও দেখা যাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে একাই ঘায়েল করে নায়িকাকে উদ্ধার করে বীরের বেশে হেটে যাচ্ছেন। 

 

টম ক্রুজ থাকা মানেই হলিউড চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। শুধু উত্তর আমেরিকায় তার চলচ্চিত্রগুলো  ৪ বিলিয়ন মার্খিন ডলারের বেশি ব্যবসা করেছে। আর সারবিশ্বে এই ব্যবসা ১০ দশমিক ১ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়।

‘এন্ডলেস লাভ’ এবং ‘ট্যাপস’ চলচ্চিত্রে সহকারী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৮১ সালে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেছিলেন হলিউডের এই সুপারস্টার। ১৯৮৩ সালে তার অভিনীত ‘রিস্কি বিজনেস’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেলে চলচ্চিত্র জগতে তাকে নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়ে যায়। এই চলচ্চিত্রকে টম ক্রুজের ক্যারিয়ার-মেকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এই চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে হলিউডে তার আসন পাকাপোক্ত হয়ে যায়।

১৯৮৬ সালে ‘টপ গান’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তারকাখ্যাতি পেয়ে যান এ তারকা। ১৯৯৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এ সময়টিতে ‘মিশন ইমপসিবল’ ছবির সিরিজগুলোতে অভিনয় করেন হলিউডের এই তারকা। অভিনয়ের সুবাদে কোটি কোটি দর্শকের কাছে আকাশছোঁয়া পরিচিতি পান টম ক্রুজ।

অভিনেতার পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও সফল হয়েছেন হলিউডের এই এভার গ্রিন অভিনেতা।  মিশন ইমপসিবল ছবিটি তারই উদাহরণ বয়ে বেড়ায়।

ভুবন ভুলানো অকৃত্রিম হাসির অধিকারী এই ‘টম ক্রুজ’ হরণ করে নেন সারা বিশ্বের সুন্দরীদের হৃদয়। বারাবার প্রেমে পড়েছেন, বিয়ের হ্যাটট্রিক পূরণ করেছেন তিনি।  

১৯৮৩ সালে পল ব্রিকম্যান পরিচালিত ‘রিস্কি বিজনেস’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে যেয়ে প্রেমে পড়েন তার বিপরীতে অভিনয় করা রেবেকা ডি মোর্নের সাথে। তবে বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়নি তাদের এই সম্পর্ক। বেশ কয়েক বছর একই ছাদের নীচে থাকার পর ১৯৮৭ সালে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে । একপর্যায়ে বিচ্ছিন্ন  হয়ে যান তারা।

রেবেকা ডি মোর্নের সাথে ব্রেকআপ হয়ে গেলে একই বছর অভিনেত্রী মিমি রজার্সের প্রেমে পড়েন টম ক্রুজ। তবে এবার আর লিভ টুগেদার নয়, প্রেমে পড়ার দুই মাসের মাথায় বিয়ে করেন তারা। বয়সে মিমি ছিলেন টমের চেয়ে ৭ বছরের বড়। সে সংসার টেকেনি বেশিদিন। বিয়ের মাত্র দুই বছর পরেই ১৯৮৯ সালে বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাদের।

মিমি রজার্সের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর ডেজ অব থান্ডার চলচ্চিত্রের সেটে ক্রুজের সঙ্গে নিকোল কিডম্যানের প্রথম দেখা হয়।

এই দেখার পরিণতি ঘটে ১৯৯০ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিয়ের মাধ্যমে। ২৩ বছর বয়সী নিকোলে কিডম্যানকে বিয়ে করে ইসাবেলা জেন ও কনর এনটনি নামে দুটি সন্তানও দত্তক নেন তারা। দীর্ঘ এক দশক সংসার করার পর ২০০১ সালে বিচ্ছেদ ঘটে তাদের।

কিন্তু খুব বেশি দিন একা থাকতে হয়নি টম ক্রুজের। ভ্যানিলা স্কাই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় অভিনেত্রী পেনেলোপি আর ক্রুজ প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ হন। তিন বছরের সম্পর্কটি ২০০৪ সালে ভেঙে যায়।

নিকোলের পর টম ক্রুজ বিয়ে করেন সুন্দরী অভিনেত্রী কেটি হোমসকে। বিয়ের আগে অবশ্য বেশ কয়েক বছর ধরে তাদের ‘লিভ ইন’ সম্পর্ক ছিল।


২০০৬ সলে ইতালির একটি প্রাসাদে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কোটি হোমসকে বিয়ে করেন টম ক্রুজ। ২৭ বছর বয়সী কেটির বিপরীতে তখন টমের বয়স ৪৪।

সুরি নামে একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে তাদের। তবে সংসারের সময়কাল ছিল ২০১২ সাল পর্যন্ত। ওব বছরের আগস্টে ডিভোর্স হয় তাদের।

পিপল ম্যাগাজিন পত্রিকায় তিনি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তির মর্যাদা লাভ করেন। ১৯৯০, ১৯৯১ এবং ১৯৯৭ সালে তিনি ৫০ জন ব্যক্তির একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ সালে এম্পায়ার তাকে চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ১০০ জন আবেদনময় পুরুষ তারকা হিসেবে তাদের তালিকায় স্থান দেয়। এর দু'বছর পর পত্রিকাটি সর্বকালের সেরা পাঁচ জনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

২০০৬ সালে প্রিমিয়ার ম্যাগাজিন টম ক্রুজকে হলিউডের সবচেয়ে   ক্ষমতাধর অভিনেতা হিসেবে মনোনীত করে; এতে তিনি ম্যাগাজিনের পাওয়ার হান্ড্রেড তালিকায় ত্রয়োদশ স্থান দখল করেন। একই বছর ফেঅর্বর্স সাময়িকী   তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর চিত্রতারকার আসনে অভিষিক্ত করে।

টম ক্রুজ সম্পর্কে কয়েকটি অবাক করা তথ্য:

হলিউডের এই প্রখ্যাত নায়ক পড়তে পারতেন না । তিনি ডাইলেক্সিয়া নামে এক কঠিন রোগে ভুগছিলেন। পরবর্তীতে সাইন্টোলজি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার মুক্তি মেলে। স্কুলে পড়ার সময় ক্যাথলিক ধর্মযাজক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ছাত্রজীবনে তাকে মোট ১৫ বার স্কুল পরিবর্তন করতে হয়েছে।

গ্লেনরিজ হাইস্কুলে পড়ার সময় টম ক্রুজ হাঁটুতে আঘাত পেয়েছিলেন। সে কারণে স্কুলের রেসি­ং টিম এমনকি অন্য খেলাধুলা থেকেও দূরে থাকতে হয়েছিল। এরপর তিনি অভিনয়কে বেছে নেন। আর সেই অভিনয়ে অত্যধিক দৌড়াদৌড়িতে বক্স অফিস মাতিয়ে তোলেন স্কুলজীবনে দৌড় থেকে বিদায় নেওয়া টম ক্রুজ।

২০০৬ সালের ১০ অক্টোবর জাপানে ‘টম ক্রুজ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। অন্যান্য হলিউড তারকার চেয়ে টম সবচেয়ে বেশি জাপান ভ্রমণ করায় তার প্রতি সম্মান জানিয়ে এ দিবস পালন করা হয়।

১৯৮৬ সালে টম ক্রুজ টপ গান সিনেমায় ফাইটার পাইলটের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু সে সময় তার কোনো পাইলট লাইসেন্স ছিল না। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে তিনি পাইলট লাইসেন্স অর্জন করেন।

 

 

Link copied!