বলিউড অভিনেত্রী রেখা অনেক নায়কের সঙ্গেই অভিনয় করেছেন। তবে অমিতাভ-রেখা জুটি ছিল সবচেয়ে আলোচিত। এই জুটিকে বলা হয় বলিউডের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রোমান্টিক জুটি। অমিতাভ বিবাহিত জেনেও তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রেখা। এসময় থেকেই পরিচালকদের কাছে তাদের চাহিদা বাড়তে থাকে।তবে এসময় একবার রেখাকে একাধিকবার চড় মেরেছিলেন অমিতাভ বচ্চন।

লাওয়ারিশ ছবিতে অভিনয় করার সময় এক ইরানি নৃত্যশিল্পীর প্রেমে পড়েন অমিতাভ। বিষয়টি জানার পর রেখা রেগে গিয়ে সরাসরি অমিতাভের কাছে এই প্রেম নিয়ে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন। এসময় ধৈর্য হারিয়ে রেখার গায়ে হাত তোলেন বর্তমানের বলিউড শাহেনশাহ।

রূপালি পর্দায় অমিতাভ-রেখা জুটির সোনালি দিন পেরিয়ে গেছে বহু আগেই। কিন্তু এদের জুটির সেই চিরকালীন আবেদন আজও এতোটুকু মলিন হয়নি। যদিও ১৯৮২ সালের সুপার ডুপার হিট ছবি ‘সিলসিলা’র পর থেকে কোনো ছবিতেই আর একসঙ্গে দেখা যায়নি এই জুটিকে, তবুও সিলসিলা ছবিতে দর্শকরা তাদের দুজনের যে সম্পর্কের রসায়ন দেখেছেন, তা যে আসলে দুজনের মধ্যেকার গভীর এক বাস্তব প্রেমেরই প্রতিফলন, কড়া মেক আপ আর সেলুলয়েডের ফিতাও তা লুকোতে পারেনি তাদের অসংখ্য ভক্তের দৃষ্টি থেকে।

আশির দশকে ফিল্মি অঙ্গনের সবচাইতে বড়ো গসিপ ছিল বলিউড দুনিয়ার রাজা-রাণী অমিতাভ আর রেখার প্রণয়োপাখ্যান। অমিতাভ এবং রেখার সম্পর্কের বিষয়টি ঘিরে আজবধি মানুষজন বিশ্বাস করে যে, রূপালী পর্দার এই দুই বিখ্যাতজনের মাঝে কিছু-না-কিছু না থেকেই পারে না। কখনোই পাদপ্রদীপের আলোয় না আসা সেই প্রেম কাহিনী আজও রহস্য থেকে গেছে অসংখ্য ভক্তদের মনে।

অমিতাভ বচ্চনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অংশ হল রেখার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সময়কাল। অমিতাভ ও রেখা দুজনেই কিংবদন্তী। কিন্তু তাঁদের সম্পর্ক আজও রহস্য। একসময় রটেছিল তাঁদের বিয়ের গুঞ্জন। পরবর্তীকালে রেখার সিঁথিতেও দেখা যায় সিঁদুর। অমিতাভ কোনোদিন তাঁর সঙ্গে রেখার সম্পর্কের কথা স্বীকার না করলেও রেখা কিন্তু অত্যন্ত অনায়াসেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের সম্পর্ক ছিল।

‘লাওয়ারিশ’ ছবির শ্যুটের সময় অমিতাভ একজন ইরানি নৃত্যশিল্পীর প্রেমে পড়েন। তত দিনে তিনি জয়াকে বিয়ে করেছেন এবং রেখার সঙ্গেও তাঁর প্রেম চলছে। এর মধ্যে আবার প্রেম? এই খবর তখন বলিউডের সকলের মুখে মুখে। রেখার কানেও তা পৌঁছায়। রেখা রেগে গিয়ে সরাসরি অমিতাভের কাছে এই প্রেম নিয়ে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে রেখার গায়ে হাত তোলেন রেখা।

অমিতাভ-রেখা। রুপোলি পর্দার প্রেম ছাড়িয়ে তাঁদের আবেদন চিরকালের। ‘দো আনজানে’ (১৯৭৬) দিয়ে তাঁদের সেলুলয়েডের রসায়ন শুরু, আর ‘সিলসিলা’ (১৯৮২) দিয়ে শেষ। অভিনয়ের চেয়ে অনেকাংশেই চর্চিত এই জুটির গভীর-গোপন প্রেম ।

কিন্তু ‘সিলসিলা’র পরে আর কোনও ছবিতেই একসঙ্গে দেখা যায়নি এই জুটিকে। কী এমন ঘটেছিল যে, এই জুটির বিচ্ছেদ ঘটে গেল এক ঝটকায়? অমিতাভ অবশ্য চিরকালই নীরব থেকেছেন এই ব্যাপারে। তবে রেখা মুখ খুলেছেন। ইয়াসের উসমানের লেখা ‘রেখা: দি আনটোল্ড স্টোরি’ গ্রন্থে তিনি জানিয়েছেন, হঠাৎ এক দিন অমিতাভের কাছ থেকে বার্তা আসে, আর নয়। আর কোনও ছবিতেই তিনি ও রেখা কাজ করবেন না।

কেন এমন সিদ্ধান্ত? প্রশ্ন অবশ্যই করেছিলেন রেখা। কিন্তু অমিতাভের উত্তর ছিল, ‘না’। এ বিষয়ে আর কোনও শব্দ তিনি উচ্চারণ করবেন না।কিন্তু অমিতাভ-রেখার প্রেমের মাঝেই ঘটেছিল এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। রেখা নিজেই তা প্রকাশ করেছেন। ‘লাওয়ারিশ’ ছবির শ্যুটের সময় অমিতাভ একজন ইরানি নৃত্যশিল্পীর প্রেমে পড়েন। তত দিনে তিনি জয়াকে বিয়ে করেছেন এবং রেখার সঙ্গেও তাঁর প্রেম চলছে। এর মধ্যে আবার প্রেম?

এই খবর তখন বলিউডের সকলের মুখে মুখে। রেখার কানেও তা পৌঁছয়। রেখা রেগে গিয়ে সরাসরি অমিতাভের কাছে এই প্রেম নিয়ে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন। বেশ কিছু ক্ষণ উভয়ের মধ্যে ঝগড়া চলার পরে থাকতে না পেরে বেশ রেগে গিয়েই অমিতাভ রেখাকে সপাটে চড় মারেন। এক বার নয়। বেশ কয়েক বার। তাও আবার সেই নৃত্যশিল্পীর জন্য।

স্তব্ধ হয়ে যান রেখা। সিদ্ধান্ত নেন শুধু ওই ছবিতেই নয়। অমিতাভের সঙ্গে আর কোনও দিনই তিনি ছবি করবেন না। পরবর্তী কালে অবশ্য যশ চোপড়ার অনুরোধেই রেখা ‘সিলসিলা’ ছবিতে কাজ করতে রাজি হন। কিন্তু ওই চড়ের কথা রেখা কোনও দিন ভোলেননি।
সূত্র: আনন্দবাজার