শুটিং থেকে ফেরার পথে পরিচালকের পালানোর অভিযোগ নায়িকার

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৫, ২০২২, ১২:২৪ এএম

শুটিং থেকে ফেরার পথে পরিচালকের পালানোর অভিযোগ নায়িকার

পাঁচ দিন শুটিং করার কথা থাকলেও কোনোমতে দুই দিন শুটিং করে ঢাকায় ফেরার পথে ইউনিটের সবাইকে ফেলে পালিয়ে গেলেন ‘ব্যাচেলর ইন ট্রিপ’ ছবির পরিচালক নাসিম সাহনিক। 

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সিনেমার শুটিং শেষে ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরার পথে বরিশালে যাত্রা বিরতি নেয়া হলে সেখানে সবাইকে রেখে পরিচালক পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ছবির নায়িকা শিরীন শিলাসহ একাধিক শিল্পী।

জানা যায়, কুয়াকাটায় পাঁচ দিনের শুটিং শিডিউল ছিল। ১৯ ডিসেম্বর দিবাগত ভোররাতে ইউনিট সেখানে পৌঁছায়। শুটিং ইউনিটে নায়ক-নায়িকাসহ শিল্পীদের থাকা-খাওয়াসহ সবকিছুতেই অব্যবস্থাপনা থাকায় ইউনিটে অসন্তোষ তৈরি হয়।

এ প্রসঙ্গে ছবিটির নায়িকা শিরীন শিলা বলেন, ‘যাওয়ার পর আমাদের যে হোটেলে রাখা হয়েছিল, বিশ্বাস করবেন না, ঠিকমতো পানি ছিল না। রুমের অবস্থাও খারাপ ছিল। খাবারও মানসম্মত ছিল না। প্রথম দিন থেকেই নাকি বাজেট সমস্যা। পাঁচ দিনের শিডিউলের কথা বলা হয়েছিল। কোনোমতে দুই দিন শুটিং করে ঢাকায় ফিরছিলাম আমরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফেরার পথে আমাদের জন্য দুটি মাইক্রোবাস ও ইউনিটের জিনিসপত্র বহনের জন্য একটা পিকআপ ভ্যান ছিল। দুপুরে রওনা দিয়ে বরিশাল এসে রাত আটটা বাজে। আমাদের সঙ্গে পরিচালকও ছিলেন। মাইক্রোর ড্রাইভার পথে গাড়ির তেল কেনা, ব্রিজের টোলের টাকা চাইলে পরিচালক দিতে পারেননি। গাড়িও বরিশাল থেকে আর ছাড়তে চাননি ড্রাইভার। একটা সময় পরিচালক আমাদের রেখে পালিয়ে যান। পরে ছবির এক শিল্পী ঢাকায় ফোন করে তাঁর কোনো এক আত্মীয়ের কাছ থেকে বিকাশে টাকা নিয়ে আমরা ঢাকাতে ফিরতে পেরেছি। তবে পথে যে কষ্ট করেছি আমার সিনেমার জীবনে এমন ঘটেনি।’

এমন সব অব্যবস্থাপনার মধ্যে শুটিং লোকেশন থেকে নিজ খরচে ঢাকায় ফিরেছেন মুকিত জাকারিয়া, কচি খন্দকারসহ ছবির আরও কয়েকজন শিল্পী। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভের স্বরে কচি খন্দকার বলেন, ‘শুটিং ইউনিট থেকে আমাদের যে হোটেলে রাখা হয়েছিল, হোটেল পছন্দ হয়নি। তাই আমি, মুকিত জাকারিয়া, মুসাফির বাচ্চু পর্যটন হোটেলে গিয়ে উঠি। থাকা, খাওয়া—সবই নিজ খরচে করেছি আমরা। শুটিংয়ের দুই দিনের মাথায় আমরা চলে আসি।’ পরে পরিচালক কোনো যোগাযোগ করেছেন কি না, জানতে চাইলে এই অভিনেতা বলেন, ‘না, এখনো যোগাযোগ করেননি। এই ছবিতে আদৌ আর কাজ করা হবে কি না, বলা মুশকিল।’

এসব অভিযোগের সাথে ছবির নায়ক কায়েস আরজু আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘এসব বাদই দিলাম। আমাকে ৩৫ হাজার টাকার একটি চেক দিয়েছিল প্রযোজক, সেটিও ডিজঅনার হয়েছে। এটি ভালো পরিচালকের কাজ নয়।’ 

এদিকে শুটিং থেকে ফেরার পথে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে পরিচালক নাসিম সাহনিক বলেন, ‘মাইক্রোচালক ঢাকায় ফেরার আগেই বরিশালে এসে পুরো ভাড়া বুঝে নিতে চেয়েছেন। এসব কারণে একটু ঝামেলা হয়েছিল। তা ছাড়া বরিশালে এসে আমি একটু অসুস্থ বোধ করি। পরে সহকারীকে সেখানে রেখে আমি অন্যভাবে ঢাকাতে ফিরেছি। আমি পালিয়ে আসিনি।’

নায়ক কায়েস আরজুর চেক ডিজঅনারের বিষয়টি স্বীকার করলে ছবির নায়িকা শিরিন শিলা যে অভিযোগ করেছেন সেটির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করা হলে পরিচালক পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।

Link copied!