‘চন্দ্রাবতী কথা’য় দারুণ অভিনয়ে প্রশংসায় ভাসছেন তনয়

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২১, ০৫:১৩ পিএম

‘চন্দ্রাবতী কথা’য় দারুণ অভিনয়ে প্রশংসায় ভাসছেন তনয়

বাংলাদেশের প্রথম নারী কবি ষোড়শ শতকের চন্দ্রাবতী ফিরলেন। অমিত প্রতিভাবান ও সংগ্রামী এই নারীকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘চন্দ্রাবতী কথা’ নামের চলচ্চিত্র। সেই চলচ্চিত্রেই তাকে দেখা যাচ্ছে অনন্য এক ভুমিকায়। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন রাশেদ চৌধুরী। এতে প্রথমবার বড় পর্দায় নজর কেড়েছেন তরুণ অভিনেতা তনয় বিশ্বাস। মুক্তির পর প্রশংসায় ভাসছেন অভিনেতা তনয়। দীর্ঘ ৫ বছরের অপেক্ষার পর গত ১৫ অক্টোবর সিনেমায় অভিষেক ঘটেছে তরুণ এ অভিনেতার।  

ছবি এঁকে সেই ছবির পেছনের গল্প যারা গানে গানে তুলে ধরেন তাদের বলা হয় পটুয়া। চন্দ্রাবতী সিনেমাটিতে এমনই একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তনয়। গল্পের পরতে পরতে তার স্বভাবসুলভ অভিনয় সবার নজর কেড়েছে।

অভিষেকেই দর্শকদের কাছে তিনি নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে অনেকটাই সফল হয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে। দ্য রিপোর্ট ডট লাইভ এর সঙ্গে আলাপে তনয় বিশ্বাস বলেন, ‘দর্শকদের অপ্রত্যাশিত সাড়া পেয়েছি। অনেকে ফোন দিয়ে বা মেসেজ দিয়ে প্রশংসা করেছেন। যেটা আমি কখনই কল্পনাও করিনি। সবাই আমাকে এতোটা পছন্দ করবেন, সেটা প্রত্যাশার বাইরে ছিল। ’  

এই অভিনেতা আরও জানান, একেবারে চরিত্রের মধ্যে ঢুকে গিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আর সেটা কতটুকু পেরেছি তা দর্শকই বিচার করবেন।  

‘চন্দ্রাবতী কথা’র জন্য তনয়ের পরিশ্রম ও ত্যাগও কম ছিল না। দুই বছর ধরে শুটিং চলায় এই সময়টিতে চুল, দাঁড়ি কাটতে পারেননি তিনি। কমাতে হয়েছে শরীরের ওজন। নতুন করে শিখতে হয়েছে ছবি আঁকা ও ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষা। এছাড়া এই সিনেমাটির জন্য অন্য অনেক কাজও ছাড়তে হয়েছে তাকে।   

প্রথম সিনেমার সাফল্য পরবর্তীতেও ধরে রাখতে চান তনয়। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও আমি ভালো কিছু চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরতে চাই। তাই গল্প ও চরিত্র পছন্দ হলে নিয়মিত ভালো ভালো কাজ দর্শকদের উপহার দিতে চাই। ’ 

২০১৩ সালে প্রাচ্যনাট্য স্কুলিং করে অভিনয় জীবনে পা রাখেন তনয়। এরপর কাজ করেছেন বেশকিছু টেলিভিশন নাটক ও মেগাধারাবাহিকে। ২০১৫ সালে একটি মোবাইল অপারেটরের বিজ্ঞাপনে কাজ করে বেশ পরিচিতি পান তিনি। উল্লেখ্য, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ম্যানগ্রোভ পিকচারস ও বেঙ্গল ক্রিয়েশনসের প্রযোজনায় এবং বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের সহযোগিতায় ‘চন্দ্রাবতী কথা’ নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধরা সিটি, সীমান্ত সম্ভার, সনি স্কয়ার মিরপুর, এসকেএস টাওয়ার মহাখালী, যমুনা ব্লকবাস্টার ও সিনেস্কোপ নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে সিনেমাটি দেখা যাচ্ছে।

চন্দ্রাবতী সিনেমার িএকটি দৃশ্যে তনয়। ছবি: দ্য রিপোর্ট

প্রায় পাঁচ বছর আগে এই সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তনয়। এমন একটি ব্যাতিক্রমী গল্পে প্রায় ৪০০ বছর আগের একটি চরিত্র বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন একজন নবীনের জন্য কম চ্যালেঞ্জিং নয়। তবে এই যুদ্ধে তনয় বেশ ভালোভাবেই জয়লাভ করেছেন। ‘চন্দ্রাবতী কথা’ ও অন্যান্য বিষয়ে তার সঙ্গে আলাপচারিতার কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

অভিনয়ের শুরু কীভাবে?

অভিনয়ে তনয়ের শুরুটা থিয়েটারে প্রাচ্যনাটের স্কুলিং থেকে। মঞ্চে কাজ করার কারণেই অভিনয়, সংলাপ ডেলিভারি বা এক্সপ্রেশন ও ফিটনেস নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন রকম চেষ্টা সবসময়ই ছিল। 

কিভাবে সিনেমার ডাক পেলেন?

তনয়ের কিছু কাজ দেখে প্রযোজনা সংস্থা ম্যানগ্রোভের অফিসে ডাক পান তিনি। সাদা ধুতি পরিধান করে ময়মনসিংহের ভাষায় একটি ছোট স্ক্রিন টেস্ট দিয়ে আসার সময়ই তিনি জানতেন না এটি একটি সিনেমার জন্য লুক টেস্ট। আরো অবাক হন তিন/চার দিন পরে তাকে যখন জানানো হয় এটি সিনেমা তো বটেই তবে গল্পটা সেই ১৪০০ বছর আগের সময়কার এবং অন্য সব শিল্পীদের সাথে তার রিহার্সালে অংশ নিতে হবে।

তনয় আরো একবার। অনন্য অভিনয়। ছবি: দ্য রিপোর্ট

অফার আসার পরে রাজী হয়ে যান তনয়। আগামী দুই বছর তিনি চুল দাড়ি কাটতে পারবেন না। গল্পের কারণে হাওড় অঞ্চল ও বিভিন্ন ঋতু পর্দায় যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য অনেক সময় ধরেই কাজটা করতে হবে। তবুও সবকিছু পাশে সরিয়ে অন্য সব অফার ফিরিয়ে এই কাজটি করতে রাজি হয়ে যান। এখন সিনেমা মুক্তির পর পাওয়া প্রশংসা তনয়ের কাছে অনেক বড় একটি প্রাপ্তি।

শ্যুটিংয়ের কোনো অভিজ্ঞতা...

শ্যুটিংয়ের সময়ে পাতলা ধুতি পরে তীব্র শীতের কবলে যেমন পড়েছেন তেমনি গল্প এবং চিত্রনাট্যের চাহিদা অনুযায়ী পায়ের ওপর দিয়ে সাপ চলে যাবার ঘটনাও ঘটেছে। ইউনিটের অন্য সবার মতো তনয়কেও ব্যতিক্রম অভিনয় ধারা, ময়মনসিংহের ভাষা আয়ত্ত্ব নিয়ে কাজ করে যেতে হয়েছে রিহার্সালে। একজন পটুয়া যখন ছবি আঁকেন তখন সেটার সাথে মিল রেখে সেই ছবির গল্পটা গানের মাধ্যমেও তুলে ধরেন। এ জন্য তনয়কে পটুয়া চিত্রশিল্পীর জীবন যাপন এবং চিত্রশিল্পী হিসেবে ট্রেনিং নিতে হয়েছে।

অবসরে কী করেন?

বাংলা, হিন্দি, দক্ষিণ ভারতীয়, হলিউড, কোরিয়ান, চাইনিজ, স্প্যানিশসহ সব ভাষার সিনেমা দেখেন তনয়। হলিউড অভিনেতা  জনি ডেপ, বলিউডের নাসিরউদ্দিন শাহ ও ঢালিউডের প্রয়াত অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী আমার আইডল। 

প্রিয় কোনো সিনেমা? 

আসলে সেভাবে বলাটা কঠিন, এতো এতো সিনেমা আছে পছন্দের তালিকায় যে, এর মাঝে অল্প ক‘টার নাম নেওয়া যুদ্ধের চেয়ে কম না। তবে শশাঙ্ক রিডেম্পশন, গুপি গাইন বাঘা বাইন, মাটির ময়না, প্যারাসাইট ও অ্যাভেঞ্জার্স আছে পছন্দের তালিকায়।

অভিনয় নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা?

আমি শিখতে চাই। সারাজীবন অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই। সবসময়ই এই শেখার ব্যাপারটা আমার মাঝে কাজ করে। কারণ অভিনয়, সংলাপ ডেলিভারি, লুক এসব নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট না করলে তো শেখা যায় না পুরোপুরি। আমি যে কাজেই জড়িত হই না কেন আমি আমার জায়গা থেকে ১০০%  দেওয়ার চেষ্টা করবো।’

সামনে বেশকিছু ভিন্নধর্মী কাজে আমাকে দেখা যাবে আমাকে। অনেকগুলো প্রজেক্ট নিয়ে কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত হলেও অফিসিয়াল কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এখনই সেসব সম্পর্কে জানাতে চাচ্ছি না।

Link copied!