এক মাসে চার লাখ অভুক্তকে খাইয়েছি: অমিতাভ বচ্চন

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মে ১১, ২০২১, ০৫:২৪ পিএম

এক মাসে চার লাখ অভুক্তকে খাইয়েছি: অমিতাভ বচ্চন

বলিউড শাহেনশা অমিতাভ বচ্চন সারাক্ষণ নেটমাধ্যমে সক্রিয় থাকা ছাড়া  নাকি আর কিছুই করছেন না! নেটাগরিকদের এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এতদিন ধরে চুপচাপ থেকে হজম করেছেন এই অভিযোগ। তবে কতক্ষণ আর চুপ থাকা যায়। তাই সোমবার (১০ মে) জেগে উঠলেন হিন্দি চলচ্চিত্রের এই রাগী যুবক । ওইদিন দিল্লির ‘শ্রী গুরু তেগ বাহাদুর কোভিড কেয়ার সেন্টার’-এ ২ কোটি টাকা দানের পরেই সামনে আনলেন তাঁর গত এক বছরের দানের হিসাব!

অমিতাভ বচ্চনের হিসাব বলছে, গত বছর তিনি এবং তাঁর পরিবার সর্বপ্রথম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত দিনমজুরদের দিকে। টানা ১ মাস দেশের ৫ হাজার শহরে ছড়িয়ে থাকা ৪ লাখ শ্রমিকের দুই বেলার অন্ন সংস্থানের ভার নিয়েছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়। প্রশাসন এবং চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের পিপিই কিটের বন্দোবস্তও করা হয়েছিল অমিতাভের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে। মহামারি রুখতে সক্রিয় শিখ জনসেবা সংগঠনকে দানের পাশাপাশি বহু শ্রমিকের ঘরে ফেরার ব্যবস্থাও করেছিলেন অমিতাভ। তাঁদের যাতায়াতের জন্য বাসের ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন।

শুধু বাস নয়, যাতায়াতের সুবিধার্ধে গোটা একটি ট্রেনের বন্দোবস্তও করে দিয়েছিলেন তিনি। যে ট্রেনে এক সঙ্গে ২৮০০ যাত্রী যাতায়াত করতে পারেন। আচমকাই করোনার প্রকোপ বাড়ায় ট্রেনটি যে রাজ্যে যাচ্ছিল, সেই রাজ্যের সরকার সেটি বন্ধ করে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ট্রেনের পরিবর্তে ৪টি বেসরকারি বিমান ভাড়া করে দেন। যে বিমানে চড়ে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান এবং জম্মু ও কাশ্মীরে নিজেদের বাড়ি ফিরে গিয়েছেন শ্রমিকেরা।

সোমবার (১০ মে) রাজধানীর শিখ গুরুদ্বার ব্যবস্থাপক সমিতির সভাপতি মনজিন্দর সিং সিরসা জানান, অর্থের পাশাপাশি অমিতাভ অক্সিজেন সিলিন্ডারেরও ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানিয়েছেন। ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট এই সেন্টারে করোনা রোগীর চিকিৎসা হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে আরও খবর, ২ অনাথ শিশুকেও নাকি দত্তক নিয়েছেন বচ্চন পরিবার। তাদের মা-বাবার মৃত্যু হয়েছে কোভিডে।

এক বছর পরে দানের হিসাব দিতে গিয়ে প্রতি পদে লজ্জিত তিনি, এমনটাই জানিয়েছেন বিগ বি। আফসোস করে রতাই তিনি বলেন, ‘ছোট থেকে শিখেছি, দান করে তা সবার সামনে প্রচার করতে নেই। এতে যিনি দিচ্ছেন এবং যাঁকে দিচ্ছেন, উভয়েই ছোট হয়ে যান।’

প্রবীণ এই অভিনেতার দাবি, সময় বদলেছে। এখন সামান্য কিছু করেই তা প্রচার করতে হয়। লোককে জানাতে হয়। না হলেই সবাই ভাবেন, কিছু না করে কেবল বড় বড় কথার চাষ চলছে।

সূত্র : আনন্দবাজার

Link copied!