কানে হলভর্তি দর্শকের অভিবাদনে আপ্লুত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ৯, ২০২১, ১২:৫৮ এএম

কানে হলভর্তি দর্শকের অভিবাদনে আপ্লুত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’

কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ প্রদর্শনের পর হলভর্তি দর্শকের করতালিতে অভিভূত হয়ে আনন্দঅশ্রুতে ভাসলেন চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন। তার পাশে তখন ছিলেন ছবির নির্মাতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদসহ অন্য কলাকুশলীরা।

দক্ষিণ ফ্রান্সের কান শহরে মঙ্গলবার এ উৎসবের ৭৪তম আসর শুরুর পরদিন বুধবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সোয়া ৩টায় পালে দে ফেস্টিভাল ভবনের দুবুসি থিয়েটারে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’র ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়।

কানে দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি ও প্রশংসায় আপ্লুত হয়ে পড়েন অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন। ছবি: সংগৃহীত।

এই আসরের ‘আঁ সেত্রাঁ রিগা’ বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি; বাংলাদেশ থেকে এই প্রথম কোনো সিনেমা কান চলচ্চিত্র উৎসবে অফিসিয়াল সিলেকশনে জায়গা পেল।

ছবিটি প্রদর্শন শেষে হলভর্তি দর্শকরা মুহুর্মুহু করতালিতে ছবির নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের ‍অভিবাদন জানাতে থাকেন।

বাঁধন সাংবাদিকদের বলেন, “সেই সময়ের অনভূতি আসলে বলে বোঝাতে পারব না। অনেকেই এসে জড়িয়ে ধরে অভিবাদন জানিয়েছে। আমি অভিভূত।”

সাংবাদিকদের কাছে অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। ছবি: সংগৃহীত। 

রেহানা মরিয়ম নূর নামে মেডিকেল কলেজের একজন সহকারী অধ্যাপকের জীবন সংগ্রামের গল্পে নির্মিত ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন।

ছবিতে বাঁধন ছাড়াও অভিনয় করেছেন আফিয়া জাহিন জাইমা, কাজী সামি হাসান, আফিয়া তাবাসসুম বর্ন, ইয়াছির আল হক, সাবেরী আলম।

বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) ছবির দ্বিতীয় প্রদর্শনী রয়েছে।

‘আঁ সেত্রাঁ রিগা’ বিভাগে বিশ্বের নানা দেশের ২০টি চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। এই বিভাগের পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৬ জুলাই।

১৭ জুলাই উৎসবের পর্দা নামবে; ১৮ জুলাই সাদ-বাঁধনদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

ছবির কাহিনী

যার নামে ছবিটি, সেই রেহানা মরিয়ম নূর সিঙ্গেল মাদার৷ ৬ বছর বয়সী এক ফুটফুটে কন্যার মা৷ মেয়েকে একা বড় করা, বাবা, মা ও ভাইয়ের দেখাশোনা, খরচ জোগাড়- সবই করতে হয় তাকে৷ এমন মানুষকে দৃঢ়তো হতেই হয়৷ কিন্তু রেহানা কতটা অবিচল তা বোঝা যায় যখন তিনি তার স্বামীর দেয়া ঘড়ি সবসময় পরে থাকেন৷ মেডিক্যালে কলেজের এই শিক্ষকের জেদ প্রমাণ করতে গিয়ে পরিচালক দেখান, যে তিনি ছাত্রীর নকল ধরার জন্য গিয়ে বসে থাকেন তার পাশে৷ সফলও হন৷  

গল্পের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে গিয়ে এসব দেখান পরিচালক৷ আসল বিপত্তি আসে যখন একজন ছাত্রী আরেক শিক্ষকের কাছে যৌন নিপীড়িত হবার সময় ঘটনাটির একটি অংশ দেখে ফেলেন রেহানা৷ এরপর প্রতিকার চাইতে বারবার বললেও সেই ছাত্রী রাজি হচ্ছিলেন না৷ এরপর রেহানা নিজেই নিজেকে বানান ভিক্টিম৷ মূলত এই ঘটনাকে আবর্তিত করেই ছবিটি৷ অন্যায়ের প্রতিকার চাওয়া আর নিজের জেদ, দুই মিলে রেহানাকে দাঁড় করায় এক ভীষণ কঠিন পরিস্থিতিতে৷

এক কথায় যদি বলি ‘রেহানা মরিয়ম নূর' ছবিটি আমাকে চরিত্রগুলোর কাছে টেনেছে৷ কাউকে সমাজের খুব দূরের মনে হয়নি৷ আরোপিত মনে হয়নি৷

বলা উচিত, মূল চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে অনেক পরিশ্রম করেছেন আজমেরী হক বাঁধন৷ তিনি একটু কুঁজো হয়ে রেহানাকে বাঁধনের থেকে আলাদা করেছেন৷ কাট কাট কথা বলা, প্রতিবাদী চোখ ও মুখের অভিব্যক্তি এসবে ভাল নম্বর পাবেন তিনি ৷

অন্য যারা অভিনয় করেছেন তাদের মধ্যে আলাদা করে বললে বাঁধনের মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করা আফিয়া জাহিন জাইমার কথা আলাদাভাবে বলতে হবে৷

মা ও মেয়ের টোনাটুনির সম্পর্ক দর্শকদের আনন্দ দেবে৷ কিন্তু শিশুর প্রতি মাঝে মাঝে বেশিই নির্দয় মনে হতে পারে রেহানাকে৷ আবার তার বুক ভাঙা ভালবাসাও বোঝা যায় ভালমতই ৷

এছাড়া প্রায় পৌণে দুই ঘন্টার ছবিটিতে প্রায় সবকিছু খুব সিনক্রোনাইজড মনে হয়েছে৷ অর্থাৎ অতিরিক্ত কোনো চরিত্র নেই, অতিরিক্ত কোনো বিষয় নেই৷ বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজেও নারীদের ও পুরুষদের ভূমিকা নিয়ে যে স্টেরিওটাইপিং কতটা, তা তুলে ধরতে গিয়ে হসপিটালে দুইজন চরিত্রকে নিয়ে আসা হয়েছে, যেটা না আনলেও খুব একটা ক্ষতি হতো না৷ মনে হয়েছে শুধু ওই কথাগুলো বলার জন্যই তাদের আনা হয়েছে৷ 

সবচেয়ে আলাদাভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে চরিত্রগুলোর ব্লকিং-এর কথা৷ প্রতিটি চরিত্র ফ্রেম-এর কোথায় দাঁড়াবে, সেখানে ঠিক কী করবে, দু'একটা জায়গা ছাড়া বাকি সবকিছুই একেবারে পারফেক্ট মনে হয়েছে৷

Link copied!