শুধু ভারত নয়, উপমহাদেশে অন্যান্য দেশগুলোতেও দীলিপ কুমারের অভিনয়ের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই জনপ্রিয়তার জোয়ারে ভেসে দীলিপ কুমারের পা পড়েছিল বাংলাদেশেও। ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঠিক চার বছর আগে ১৯৯৫ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন চিত্রনায়ক মাহমুদ কলি।
সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে চলচ্চিত্র প্রযোজক কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপু বলেন, ‘দিলীপ কুমার ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো। তাকে সরাসরি এক নজর দেখাটা ছিল অনেকের কাছে ভাগ্যের বিষয়৷ সেদিন রাজনৈতিক নেতাদের আত্মীয়-স্বজনদের ভিড়ে অনেক শিল্পীও তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। ওই দিন এফডিসি লোকে লোকারণ্য হয়ে গিয়েছিল।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি ও ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ফিরোজ নূন সাহেবের যৌথ আমন্ত্রণে ঢাকা এসেছিলেন তিনি।’
ফিরোজ নূন সিনেমা নির্মাণ, প্রযোজনা বা অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে তিনি সেন্সর বোর্ডের সদস্য ছিলেন। যে কারণে চলচ্চিত্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। তিনি নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের আত্মীয় হওয়ায় এই সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছিল। দিলীপ কুমারের সঙ্গে তার আগে থেকেই ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল।

বিএফডিসির দুই নম্বর ফ্লোরে দিলীপ কুমারকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। সেদিনের অনুষ্ঠান সম্পর্কে লিপু বলেন, ‘বড় করে অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত আনিসুল হক। অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতাসহ চলচ্চিত্রের সব মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন।’
৮ বার সেরা অভিনেতা হিসেবে ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার জয় করেন দিলীপ কুমার। ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারেও তাকে সম্মানিত করা হয়। ২০১৫ সালে কিংবদন্তি এই অভিনেতা ‘পদ্মভূষণ’ লাভ করেন। শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে মুম্বাইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিলীপ কুমার বুধবার (৭ জুলাই) সকালে মারা যান।