ঢালিউড নায়ককে ৯ মাস শিকলে বেঁধে যৌন নির্যাতন!

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জানুয়ারি ৬, ২০২২, ০৬:২৯ পিএম

ঢালিউড নায়ককে ৯ মাস শিকলে বেঁধে যৌন নির্যাতন!

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের এক উঠতি নায়ককে নয় মাস আটকে রেখে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। অনিক রহমান অভি নামে ওই নায়ককে একটি মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে আটকে রেখে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মাসের পর মাস যৌন  নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জানালে মঙ্গলবার (০৪ জানুয়ারি) গাজীপুরের নগরীর ভাওয়াল মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে অভিসহ ২০ জনকে উদ্ধার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ফিরোজা নাজনীন বাঁধনসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক জায়েদ খান গণমাধ্যমে বলেন, “আমি জানতে পারি গাজীপুর ভাওয়াল মাদকাসক্ত কেন্দ্রে অভিকে আটকে রাখা হয়েছে। র‍্যাবকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানাই। র‍্যাব তাকে উদ্ধার করেছে। আমি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ। ”

অভিকে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন চালানো হতো, এমটা ফেসবুকেও উল্লেখ করেছেন জায়েদ খান। তিনি বলেন, ‘চিত্রনায়ক অনিক রহমান অভি মাদকাসক্ত না হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ ৯ মাস শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে শারীরিক যৌন নির্যাতন চালাতেন ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক এক নারী। বিষয়টি গোপন সূত্রের ভিত্তিতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‍্যাব অভিযান চালিয়ে সেখানে চিত্রনায়ক অভি’সহ আর ২০ জনকে উদ্ধার করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষের লোকজন অভিযান পরিচালনার সময় মাদকাসক্ত ছিলেন!’

মেডিসিন খাইয়ে, ভয়ভীতি দেখিয়ে, যৌন নির্যাতন:

বন্দীদশা থেকে উদ্ধার হয়ে রিহ্যাব সেন্টারের নারকীয় বর্ণনা দিলেন চিত্রনায়ক অভি। তিনি গণমাধ্যমে বলেন, “করোনাকালীন সময়ে আসলে নানা ভাবেই আমরা চাপে ছিলাম। এটা আপনারা সবাই জানেন। আমিও সেই চাপে পরি যখন দেখি আমার কোম্পানি ঠিকঠাক ভাবে চলছে না বরং বন্ধ হওয়ার পথে। মূলত কর্মচারীদের বেতন দিয়ে গিয়ে আমি ছোট ছোট কিছু ঋণ নিয়েছি। তারপরও আমি সামলাতে পারছিলাম না। একটা সময় ঘুমের ওষুধ খাওয়া শুরু করি। তারপর ফ্যামেলি সন্দেহ শুরু করে যার জন্য, আমাকে রিহ্যাবে ভর্তি করা হয়। ডোপ টেস্ট করে সামান্য কিছু ঘুমের ওষুধের রক্তে মিশ্রণ পায়।”

অভি আরও বলেন, “কিন্তু আমার ফ্যামেলিকে জানানো হয় আমার অবস্থা খুবই খারাপ। এরজন্য তিনমাসের আগেই কোনভাবে দেখা করা যাবে না। এরপর তিনমাস থেকে সাত মাস। এই সময়টুকু নানা ধরণের নির্যাতন করেছে। তারমধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য হচ্ছে যৌন নির্যাতন। এছাড়া নানা ধরণের মেডিসিন খাইয়ে, ভয়ভীতি দেখিয়ে, ইনজেকশেন দিয়ে খুব বাজে অবস্থা করে ফেলেছে।”

চিত্রনায়ক অনিক রহমান অভি ‘সাহসী যোদ্ধা’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী পপির সঙ্গে। এছাড়াও তিনি ‘চটপটি ভালোবাসা’, ‘দুষ্টু ছেলে’, ‘ভালোবাসা ডটকম’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

র‌্যাবের বক্তব্য:

অভিযানের পর কেন্দ্রটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে বলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমে তিনি বলেন, “যেভাবে নিরাময় কেন্দ্র পরিচালনা, চিকিৎসা ও রোগীদের সেবা দেওয়ার কথা, তার কিছুই এখানে মানা হয়নি। ভর্তি রোগীরা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের মালিকের নেতৃত্বে তাদের মানসিক, শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করা হতো।”

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, অভিকে মেডিক্যাল টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাকে কেন আটকে রাখা হয়েছিল, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

Link copied!