বাংলাদেশের জনপ্রিয় এবং নন্দিত অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতি। সোনালী দিনের জনপ্রিয় নায়িকা তিনি। দুর্দান্ত অভিনয়ের মধ্য দিয়ে একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন সিনেমাপ্রেমীদের। আজ এই অভিনেত্রীর ৫৬ তম জন্মদিন। ১৯৬৫ সালে ৩১ শে মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে জন্ম নেন তিনি।
শৈশবে তার গায়িকা হওয়ার ইচ্ছা ছিল এবং তিনি গানের চর্চাও করতেন। জাতীয় শিশু একাডেমি থেকে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।বিটিভিতে গান করার সুবাদে তিনি অভিনেতা আল মনসুরের নজরে আসেন এবং মনসুর তাকে লাইলি মজনু নাটকে অভিনয়ের সুযোগ দেন। এতে দিতির বিপরীতে অভিনয় করেন মানস বন্দ্যোপাধ্যায়। নাটকটি জনপ্রিয়তা লাভ করলেও দিতির পরিবার থেকে তাকে অভিনয় করতে বাধা দেওয়া হয়। কিছুদিন বিরতির পর তিনি ইমিটেশন নাটকে অভিনয় করেন।
১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রে দিতির সম্পৃক্ততা ঘটে। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত ‘ডাক দিয়ে যাই’। কিন্তু ছবিটি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। আজমল হুদা মিঠু পরিচালিত এবং দিতি অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ‘আমিই ওস্তাদ’। ১৯৮৭ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘স্বামী স্ত্রী’ সিনেমায় আলমগীরের স্ত্রীর চরিত্রে ছিলেন তিনি। এই সিনেমার মাধ্যমেই তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
অভিনেতা সোহেল চৌধুরীকে বিয়ে করেছিলেন দিতি। দুটি সন্তান রয়েছে দিতি-সোহেল দম্পতির। কিন্তু নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাদের। ১৯৯৮ সালে সোহেল চৌধুরী মারা যাওয়ার পর অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনকে বিয়ে করেন তিনি। কিছু সময়ের পর তাদের বিচ্ছেদ হয়।
তবে নন্দিত এই নায়িকা খুব কম বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান। ২০১৫ সালে দিতি মস্তিষ্কে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। ভারতের চেন্নাইতে এবং বাংলাদেশের ইউনাইটেড হাস্পাতালে চিকিৎসার পরেও বাঁচতে পারেননি তিনি। ২০১৬ সালে ২০ মার্চ আইসিইউতে থাকাকালীন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।