চলচ্চিত্রের পর্দায় সাধারণত নায়কই নায়িকার জীবন বাঁচায়। কিন্তু একবার বাস্তব জীবনে ঘটেছিল এর উল্টো ঘটনা। নায়িকাই জীবন বাঁচিয়েছিল নায়কের। ঘটনা বলিউডের গেরুয়া সিনেমার সেটে ঘটেছিল বেশ কয়েকবছর আগে।
শাহরুখ-কাজল অভিনীত গেরুয়া সিনেমার ‘নিকলি হ্যায় দিল সে ইয়ে দুয়া… রং দে তু মোহে গেরুয়া’-গানটা কার না চেনা। কিন্তু এই গানের শ্যুটিংয়েই অবসান হতে পারত শাহরুখের জীবনের। কিন্তু সেখানে শাহরুখের ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ হয়ে হাজির ছিলেন কাজল।
হ্যাঁ! সেই কাজল যার সঙ্গে শাহরুখের রোমাঞ্চের আলোকচ্ছটায় মশগুল হয়ে থাকত বিগত শতকের আশি-নব্বই দশকের বক্স অফিস।
রোহিত শেঠঠির সিনেমায় প্রায় চার বছর পর জুটি বেঁধেছিলেন শাহরুখ-কাজল। পর্দায় যাদের রসায়নে বুঁদ হয়ে থাকেন আট থেকে আশির দর্শক। ছবির তুমুল রোমান্টিক গান ‘গেরুয়া’র শ্যুটিং চলছিল খাদে ঘেরা পাহাড়ি গুহা, জলপ্রপাতের সামনে চোখজুড়োনো লোকেশনে। এবড়োখেবড়ো পাহাড়ি জমিতেই ক্যামেরাবন্দি হচ্ছিল তাদের জমাটি প্রেম। নাচের মহড়া দেওয়ার সময়ে আচমকাই ঘটে গেল চরম বিপত্তি। নাচের স্টেপ অনুযায়ী পিছোতে গিয়ে শাহরুখ পা ফস্কে পড়েই যেতেন অতল খাদে। কিন্তু ত্রাতা হয়ে এলেন ‘দিলওয়ালে’ ছবিতে তার পর্দার প্রেমিকা, কাজল। একেবারে ঠিক সময়ে তার হাত ধরে ফেলেন কাজল। তুলে আনেন বিপদের মুখ থেকে। স্তব্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটও এমন অবস্থায় সম্বিত ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।
পরে ‘গেরুয়া’ গানটি তৈরি নিয়ে একটি ভিডিয়োয় সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তের গল্প শুনিয়েছেন কাজল নিজেই। বলেছেন কিং খানও। বহু বছরের বন্ধু এবং পর্দার প্রেমিকাকে বারবার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শাহরুখ। বলিউডের ‘বাদশা’ কাজলকে সোজাসুজি বলেছেন, “আমি তোমার কেনা হয়ে রইলাম, এ জীবন এখন থেকে তোমারই নামে লেখা।”
‘মাই নেম ইজ খান’-এর পর রোহিত শেট্টির ‘দিলওয়ালে’ ফের একসঙ্গে অভিনয় করেন শাহরুখ-কাজল। অ্যাকশন-প্রেমকাহিনিতে জমজমাট ছবিতে আর একটি জুটি হিসেবে ছিলেন বরুণ ধাওয়ান এবং কৃতী শ্যানন। মূলত শাহরুখ-কাজল ম্যাজিকের টানেই দর্শকেরা ভিড় করেছিলেন হলে।