রবিবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজ থেকে নিজের উপর ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টার বিচার চেয়ে পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ঢাকার বনানীতে নিজের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন জনপ্রিয় ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বোট ক্লাবের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য (বিনোদন ও সংস্কৃতি), উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
পরীমনির দাবী, চার দিন আগে উত্তরায় বোট ক্লাবে নাসির তার উপর চড়াও হয়েছিলেন। নাসির কোন সংবাদ মাধ্যমকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য দেন নি।
পরীমনি আরও জানান, ১০ জুন রাতে পারিবারিক বন্ধু অমি ও ব্যক্তিগত রূপসজ্জাশিল্পী জিমির সঙ্গে বাইরে বেড়াতে বের হয়েছিলেন তিনি। রাত ১২টার পর অমি তাঁদের নিয়ে যান আশুলিয়ার ঢাকা বোট ক্লাবে। সেখানে মদ্যপানরত কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে পরীমনির পরিচয় করিয়ে দেন অমি। পরীর দাবী ওই ব্যক্তিদেরই একজন নাসির, যে হঠাৎ জোর করে তাঁর মুখে পানীয়র গ্লাস চেপে ধরে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ সময় মারধর করা হয় পরীর সঙ্গে থাকা জিমিকেও। তিনি বলেন সেখানকার ওয়েটাররা তাদেরকে ক্লাবটি থেকে বের করে নিয়ে আসে এবং ক্লাবের সকল সিসিটিভি ক্যামেরাতেও এগুলো সব রেকর্ড হয়ে রয়েছে।
তিনি জানান যে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং তার হঠাৎ মৃত্যু হলে তা আত্মহত্যা নয় বরং খুন হবে বলে জানিয়ে রাখেন। এসব ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
পরীমনির ভাইরাল ফেইসবুক পোস্ট ও সংবাদ সম্মেলন নিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, লিখিত অভিযোগ করলে এ বিষয়ে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।
পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সংবাদ কর্মীদের জানান, স্ট্যাটাসটি ও প্রেস ব্রিফিং তাদের নজরে এসেছে। নায়িকার বাসা বনানী এলাকায় এবং ঘটনাস্থল মিরপুরের রূপনগর থানাধীন ঢাকা বোট ক্লাব। তিনি রূপনগর বা বনানী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তারা মিরপুর বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
পরীমনি রবিবার (জুন ১৩) রাতে তার ভেরিফাইড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এক পোস্টে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। ফেসবুক পোস্টটিতে কারো বিরুদ্ধে কোন স্পষ্ট অভিযোগ তুলেন নি এই চিত্রনায়িকা।

পোস্টটিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে মা হিসেবে সম্বোধন করে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এবং লিখেন- "আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।” তিনি দাবী করেছেন পুলিশও তাকে কোন সাহায্য করেনি।
ফেসবুক পোস্টটি মুহুর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনটির আগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম পরীমনির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দাবী করেন বনানী থানায় অভিযোগ করার চেষ্টা করলেও সেখানে মামলা গ্রহণ করেনি।
চলচ্চিত্রে পরীমনি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিলেও তার আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি।
যদিও, প্রেস ব্রিফিং এর আগে রবিবার রাতে বনানী থানার ওসি নুরে আজম মিয়া সংবাদকর্মীদের জানান এই দুই নামের কেউই কোন অভিযোগ করতে আসেন নি। তিনি আরও জানান এরকম কোন অভিযোগ নিয়ে যে কেউই আসলে তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনের পর পুলিশের গুলশান বিভাগের কর্মকর্তারা সংবাদ মাধ্যমগুলোকে জানায় ঘটনার রাতে সাড়ে তিনটার দিকে পরীমণি বনানী থানায় গিয়েছিলেন। থানায় গিয়ে তিনি দায়িত্বরত কর্মকর্তাদ্যের তিনি বলেন তার সঙ্গে অশোভনীয় আচরণ করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে তিনি অভিযোগ দায়ের করতে চান।
কিন্তু বনানী থানার পুলিশ সদস্যরা তার আচরণ কিছুটা ‘অপ্রকৃতিস্থ’ মনে করেন। সুনির্দিষ্টভাবে কোন অভিযোগ বলতে না পারায় এবং ‘এলোমোলো কথাবার্তা’ বলায় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে সুস্থ হয়ে দিনের বেলায় আসতে বলেন।
এসব ‘অসংলগ্ন’ আচরণ দেখে পুলিশের একটি দল তাকে সেখান থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে আসেন। তাদের মতে এর পরে তিনি আর থানায় যাননি ও পুলিশের কারো সাথে কোন যোগাযোগ করেন নি।
তবে, সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন মিরপুরের রূপনগর থানার ওসি পরীমনির বাসায় উপস্থিত থেকে তার বক্তব্য শুনেছেন।
নড়াইলের স্থানীয় পরীমনি ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিশটিরও অধিক বাংলা চলচ্চিত্রে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন।