আগস্ট ১৯, ২০২২, ০৩:০৫ পিএম
সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘আশীর্বাদ’ মুক্তির আগেই বিতর্কের ঝড় তুলেছে। আশীর্বাদ সিনেমা নিয়ে সহ প্রযোজক জেনিফারের সংবাদ সম্মেলন হওয়ার পর থেকেই প্রযোজক ও কেন্দ্রীয় চরিত্রের শিল্পীদের মধ্যে বাকযুদ্ধ চলছে। সিনেমার শুরু থেকে শুটিংয়ের সময়ের নানা ঘটনার উদাহরণ টেনে একে অপরকে দোষারোপ করছেন প্রযোজক ও শিল্পীরা।
বৃহস্পতিবার প্রযোজকের পর আলাদা সংবাদ সম্মেলন করেন 'আশীর্বাদ' সিনেমার নায়ক- নায়িকা জিয়াউল রোশান ও মাহিয়া মাহি। নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের বাড়ির ছাদে আয়োজন করা হয় এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা সকলে এ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে তাদের নানা প্রতিবন্ধকতার কথা জানান।
অভিযোগ করে মাহি বলেন, অনুদানের সিনেমাতে সরকার যে টাকা দিয়েছে সেটা কি এই ছবিতে খরচ করা হয়েছে? আমি হলফ করে বলতে পারি, সরকার ৬০ লাখ টাকা দিয়েছে, অথচ খরচ করেছে ২৫ লাখ। বাকি টাকা প্রযোজক কোথায় খরচ করেছে সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত। তার জবাবদিহি করা উচিত। এই টাকা ওনার নয়। সরকারি অনুদান দেয়া হয় জনগণের ট্যাক্স থেকে। বাকি টাকা জেনিফার ফেরদৌস কোথায় খরচ করেছেন নাকি শপিং করেছেন খুঁজে দেখার অনুরোধও জানান মাহি।
জেনিফার ফেরদৌস কোনো পেশাদার প্রযোজক নন। যেহেতু এটা সরকার ও জনগণের টাকার সিনেমা তাই জেনিফার ফেরদৌস এখানে লাইন প্রডিউসার। তাকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল উনি বরং সেখান থেকে টাকা মেরেছেন। এজন্যই ছবিটির সঙ্গে আমরা নাই- যোগ করেন এই চিত্রনায়িকা।
মাহি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছবি এবং সরকারি অনুদানের ছবি বলেই ‘আশীর্বাদ’ করতে রাজি হয়েছিলাম। আরেকটি কারণ হচ্ছে-এর পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। তার সঙ্গে আমার এতো ভালো বোঝাপড়া যে ১০ লাখের জায়গায় ৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেই। আমি কিন্তু শুরু থেকে বলে আসছি জেনিফারকে দেখে আমি সিনেমাটি করিনি। কিন্তু জেনিফার যে শুটিংয়ে এমন অপেশাদার আচরণ করবেন ভুলেও ভাবিনি।
'আমি ঠকেছি, সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। ছবি করতে গিয়ে যে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি গত ১০ বছরের ক্যারিয়ারে কোনো প্রযোজকের সঙ্গে এমন বাজে অভিজ্ঞতা হয়নি। খুব স্বপ্ন নিয়ে অনুদানের সিনেমাটি করতে চেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম কোনোভাবে যদি প্রধানমন্ত্রী কাজটি দেখেন! হয়তো দেখবেনও.. তবে বলবো ৬০ লাখ টাকা সত্যি খরচ করলে অনেক ভালো সিনেমা বানানো যেত।'
শুধু মাহিয়া মাহি নন। প্রযোজকের বক্তব্যের কড়া জবাব দেন অভিনেতা রোশান। তিনি বলেন, এই সিনেমা মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা। এটি করতে পারাও আমাদের জন্য গর্বের। তবে সিনেমা নিয়ে যা হচ্ছে মুক্তির আগেই তাতে আমরা লজ্জিত।
রোশান বলেন, আমি সিনেমা করতে যা পারিশ্রমিক নেই তার ধারেকাছেও যাইনি। মাত্র একলাখ টাকা নিয়েছি। বাকি টাকা সিনেমাটির ভালোর জন্য খরচ করতে বলেছিলাম। কিন্তু জেনিফার তা করেনি। বরং নিজের মন মতো যা ইচ্ছে তাই করছেন। আমাদের না জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করছেন যাতে তার ব্যক্তিগত প্রচার বাড়ে। এসব মেনে নেওয়া যায় না।
জোড়াতালি দিয়ে আশীর্বাদ সিনেমা বানানো হয়েছে মন্তব্য করেন খোদ এই সিনেমার পরিচালক। মোস্তাফিজুর রহমান মানিক বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটা জিপ পাইনি শুটিংয়ের জন্য। এটা আমার গল্পের ডিমান্ড ছিলো। আমি একটা গান প্রপারলি শ্যুট করতেও পারিনি। যা করেছি জোড়াতালি দিয়ে। মোদ্দাকথা, অনেক আশা নিয়ে শুরু করেও ছবিটা আমি ঠিকঠাক মতো বানাতেই পারিনাই।
দেশে এখন সিনেমার জোয়ার চলছে। ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’ হিট যাচ্ছে। অথচ এই সময়ে আমার এই ছবি যারা দেখবে তারা গালিগালাজ করবে। 'একজন নির্মাতা হিসেবে এরচেয়ে কষ্টের বিষয় আর কি হতে পারে? প্রযোজক জেনিফার যেসব অভিযোগ তুলেছেন সেসব একেবারেই অপ্রয়োজনীয় বলেও মন্তব্য করেন প্রযোজক।