দুইশো কোটি রুপি প্রতারণা মামলায় শ্রীলঙ্কান অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্ডেজের পর এবার একই মামলায় বিপদে পড়তে চলেছেন বলিউডের অপর বিদেশি সুন্দরী নোরা ফাতেহি। সুকেশ চন্দ্রশেখরের কাছ থেকে দামী-দামী উপহার নেওয়ার অভিযোগ আগে থেকেই রয়েছে নোরার বিরুদ্ধে।

আনন্দবাজার. হিন্দুস্তান টাইমসসহ ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বলিউডের ‘সাকি সাকি’ গার্লকে এই মামলায় গতকল শুক্রবার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দিল্লি পুলিশের ইকোনমিক উইংস। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সাত ঘন্টা ধরে জেরা করা হয় নোরাকে।

দিল্লি পুলিশের ইকোনমিক উইংস-এর তরফে দায়ের এফআইআরের ভিত্তিতে এই মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি।
পাশাপাশি নিজেদের তদন্ত জারি রেখেছে দিল্লি পুলিশের ইকোনমিক উইংস।
প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত জালিয়াত সুখেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে ইডি এবং দিল্লি পুলিশের ইকোনমিক উইংস।

হিন্দুস্তান টাইমসের এদিন নোরাকে অর্ধশতাধিক প্রশ্ন করেন তদন্তকারীরা। কী কী উপহার সুকেশের কাজ থেকে পেয়েছেন নোরা, কার সঙ্গে নোরার কথা হত? কীভাবে সুকেশের সঙ্গে তাঁর পরিচয়? তারপর সম্পর্ক কেমনভাবে এগোল? এই সব তথ্য জানতে চেয়েছে পুলিশ। নোরা জানিয়েছেন, জ্যাকুলিনের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। আলাদা আলাদাভাবে তাঁদের সুকেশের সঙ্গে কথা হয়েছে।
‘প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট’-এর আওতায় ইডি কর্মকর্তাদের সামনে আগেই জবানবন্দি দিয়েছেন নোরা ফাতেহি, তবুও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি তাঁর। প্রসঙ্গত, গত মাসেই এই আর্থিক কেলেঙ্কারিকে জ্যাকুলিনকে অভিযুক্ত হিসাবে পেশ করেছে ইডি।

দিল্লি হাইকোর্টে পেশ করা সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট স্পষ্ট জানিয়েছে জেলবন্দি জালিয়াত সুকেশ চন্দ্রশেখরের থেকে লাভবান হয়েছেন জ্যাকুলিন। কনম্যান সুকেশ চন্দ্রশেখরের অন্ধকার জগতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা জেনেও কেবলমাত্র টাকার লোভের তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন জ্যাকুলিন দাবি ইডির। এমনকী ওয়েব সিরিজের লেখকের পারিশ্রমিক পর্যন্ত সুকেশের কাছ থেকে আদায় করেছিলেন ওই নায়িকা।

অন্যদিকে ইডিকে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, কনম্যান সুকেশ চন্দ্রশেখরের কাছ থেকে বলিউডের অনেক তারকাই উপহার নিয়েছে, তাহলে তার দিকে আঙুল উঠছে কেন? পরোক্ষভাবে নোরার দিকেই ইঙ্গিত করেন জ্যাকুলিন।

সরকারি কর্মকর্তা সেজে একাধিক ব্যক্তির থেকে টাকা হাতিয়েছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হন সুকেশ এবং তাঁর স্ত্রী লীনা মারিয়া পল। গ্রেফতারের পর সুকেশের সঙ্গে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের ঘনিষ্ঠতার কথা প্রকাশ্যে আসে। তদন্তকারীদের সুকেশ জানায়, অভিনেত্রীকে ৫ কোটি ৭১ লাখ টাকার উপহার দিয়েছে সুকেশ চন্দ্রশেখর। অভিনেত্রীর পরিবারের লোকজনকেও কোটি কোটি টাকা দিয়েছে সে।

জ্যাকুলিনের সঙ্গে সম্পর্কে থাকবার কথা নিজের মুখেই ইডির কর্মকর্তাদের জানিয়েছে সুকেশ। যদিও নায়িকা সেকথা অস্বীকার করেছেন, তবে দুজনের ফাঁস হওয়ার ঘনিষ্ঠ ছবি সুকেশের দাবিকেই সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

জালিয়াতির এই মামলায় ইতিমধ্যেই ঘোর বিপাকে জ্যাকুলিন, এবার বিপদ বাড়ছে নোরা ফতেহিরও। তবে এই নিয়ে এখনও কোনওরকম বিবৃতি দেননি নোরা ফাতেহি।