নারী দিবসকে কেন্দ্র করে গত ৭ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ‘নট হার ফল্ট’। ধর্ষণের শিকার নারীর প্রতি সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি। ‘নিজের ইচ্ছায় যেটা ঘটে না, সেখানেতো কারো কোন হাত নেই’, এমন সংলাপ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। প্রথম আলোর উদ্যোগে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছে নির্মাতা মাহাথির স্পন্দন। মুল চরিত্রে ছিলেন বিদ্যা সিনহা মিম এবং ইরফান সাজ্জাদ। সচেতনতামুলক গল্পটি প্রশংসায় ভাসছে।

চলচ্চিত্রটি মাত্র ৫ মিনিটের হলেও পরিচালক কোন কিছুর কমতি রাকগেনি দর্শকের কাছে বার্তাটি পৌছানোর। চলচ্চিত্রে বিদ্যা সিনহা মিম এবং ইরফান সাজ্জাদের অভিনয় প্রশংসনীয়। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির মধ্যে আরও রয়েছেন মিলি বাশার, ফখরুল বাশার, শিল্পী সরকার প্রমুখ।
এখানে মিমকে দেখা গিয়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের চরিত্রে। যে বাসে আসার পথে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল এবং তখন থেকেই তার পায়ে সমস্যা। ছেলে পক্ষ অর্থাৎ ইরফানের পরিবার বিয়ের জন্য তাকে দেখতে আসলে মিমের বাবা মিথ্যা কারন বলতে শুরু করে। কিন্তু বাধা দিয়ে মিম তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সকলের সামনে জানায়। বিষয়টি নিয়ে ইরফান নেতিবাচক কোন বক্তব্য না দিয়ে বলেন, ‘যার ভুল নয়, সে কেনো দায় দেবে।’ তার এই কথার মধ্য দিয়ে ধর্ষণের শিকার নারীদের প্রতি চিন্তা চেতনার পরিবর্তনের দিকটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এখনও সমাজে ধর্ষণের শিকার নারীদেরকে দোষ দেয়া হয়। সেই নারীকে সমাজে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমন মানসিকতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে চলচ্চিত্রটি উপস্থাপন করা হয়েছে। কারন দোষ সবসময় ধর্ষকের, ধর্ষিতার নয়।

চলচ্চিত্রটি নিয়ে নির্মাতা মাহাথির স্পন্দন বলেন, ‘এই গল্পটি বলার উদ্দেশ্য একটাই। যারা ধর্ষণের শিকার, তাদের প্রতি আমরা যেন আরেকটু সহানুভূতিশীল ও হৃদয়বান হই। আমাদের সমাজে তাদের ব্যাপারে যে মানসিকতা, এই গল্পের মাধ্যমে সেটা যদি কিছুটা দূর করতে পারি, সেখানেই আমাদের সার্থকতা।’
অনেকে বলছেন, বাস্তবে হয়তো এমন দেখা যায় না, কিন্তু এ রকমই হওয়া উচিত। আজ দুপুর ২ টা পর্যন্ত এটি দেখা হয়েছে ১৯ লাখ বারেরও বেশি। মন্তব্যে পৃথা মণ্ডল লিখেছেন, মানুষকে বদলাতে না পারলেও তার মানসিকতা বদলানো কঠিন নয়। মানসিকতা বদলালে, সমাজও বদলে যাবে। যদিও বাস্তবতা ভিন্ন, তবু এ ধরনের শর্টফিল্ম নিয়মিত তৈরি হলে সমাজ একদিন বদলাবেই। পজিটিভ কিছু মানুষের মনে দীর্ঘস্থায়ী পজিটিভ ইফেক্ট ফেলে।

এদিকে এই বিষয়ে অভিনেত্রী মিম বলেছেন, ‘আমার মনে হয়েছে, একজন নারী হিসেবে সমাজকে আমার এ রকম সচেতনতার একটি বার্তা দেওয়া উচিত যে, তাদের প্রতি সদয় হোন।’ এ স্বল্পদৈর্ঘ্যে কাজ করার জন্য পারিশ্রমিক না নেওয়া প্রসঙ্গে মিম বলেন, ‘একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে এটা আমার সামাজিক দায়িত্ব।’