বঙ্গবন্ধু বায়োপিক: তাজউদ্দীন চরিত্রে ফেরদৌসের বদলে রিয়াজ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১, ০২:১৭ পিএম

বঙ্গবন্ধু বায়োপিক: তাজউদ্দীন  চরিত্রে ফেরদৌসের বদলে রিয়াজ

বঙ্গবন্ধু’ নির্মিত হচ্ছে ভারতীয় নির্মাতা শ্যাম বেনেগালের হাতে। বাংলাদেশি বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী এখন মুম্বাইতে সেই বায়োপিকের শুটিংয়ে ব্যস্ত আছেন। ছবিতে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল চিত্রনায়ক ফেরদৌসের। কিন্তু তিনি থাকছেন না।

হঠাৎ করেই জানা গেছে এই চরিত্রে ফেরদৌস নয়, অভিনয় করবেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ‘বঙ্গবন্ধু’ সিনেমার বাংলাদেশ অংশের লাইন প্রডিউসার ও নির্মাতা মোহাম্মদ হোসেন জেমী। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, তথ্যটি সঠিক। ফেরদৌসের পরিবর্তে তাজউদ্দীন আহমেদের চরিত্রে রিয়াজকে নেওয়া হয়েছে। কিছু টেকনিক্যাল কারণ ছিল এই পরিবর্তনের।’ তিনি আরো বলেন,‘মুম্বাই গিয়ে সিনেমার প্রথম লটের শুটিংও করেছেন রিয়াজ। বাংলাদেশে যখন বাকি অংশের শুটিং হবে সেখানেও যোগ দেবেন তিনি।’

এ প্রসঙ্গে রিয়াজ বলেন, ‘একটা চমৎকার কাজ এসেছে। সেটা করেছি আনন্দ নিয়ে। কাজটি যেন ভালো হয় সেই চেষ্টা আছে।’

জানা গেছে, যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েই মুম্বাই গেছেন রিয়াজ। এর আগে অন্য চরিত্রে অভিনয়ের কথা থাকলেও পরে তাজউদ্দীনের চরিত্রেই সিনেমার অংশ হন তিনি।’

এই বায়োপিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে আরিফিন শুভ, শেখ হাসিনার চরিত্রে নুসরাত ফারিয়া, শেখ রেহানার চরিত্রে সাবিলা নূর ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর মা শেখ সায়েরা খাতুনের চরিত্রে অভিনয় করবেন দিলারা জামান এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী চরিত্রে থাকবেন তৌকীর আহমেদ। এছাড়াও খন্দকার মোশতাকের ভূমিকায় ফজলুর রহমান বাবু, বঙ্গবন্ধুর বাবা শেখ লুৎফর রহমানের চরিত্রে খায়রুল আলম সবুজ, একে ফজলুল হকের চরিত্রে শহীদুল আলম সাচ্চু, আবদুল হামিদ খান ভাসানী চরিত্রে রাইসুল ইসলাম আসাদ, শেখ রেহানার চরিত্রে দীঘি ও তিশাকে দেখা যাবে।

তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে পালন করেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর আরও তিনজন জাতীয় নেতাসহ তাকে বন্দি করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। সেখানেই ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বন্দি অবস্থায় ঘাতকের বুলেটে তিনি নিহত হন।

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক জটিলতা থেকে এখনও মুক্ত হতে পারেননি নায়ক ফেরদৌস। এ কারণ ভিসা জটিলতায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজেটের ছবিটিতে তিনি অভিনয় করতে পারছেন না। ভারতের গত লোকসভা নির্বাচনে বাংলাদেশি হয়েও কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ফেরদৌসের বিরুদ্ধে। পরে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে কালো তালিকাভুক্ত করে। এ কারণে শুধু ‘বঙ্গবন্ধু’তেই নয়, কলকাতার নানা ছবি থেকেও বাদ পড়েন তিনি।

Link copied!