সহকারী পরিচালক থেকে চিত্রনায়ক ওয়াসিম

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ১৮, ২০২১, ১০:২৮ এএম

সহকারী পরিচালক থেকে চিত্রনায়ক ওয়াসিম

বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনে শোকের ছায়া না কাটতেই আবারও নতুন শোক হাজির। চির বিদায় নিলেন অভিনেতা ওয়াসিম। বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে শনিবার দিবাগত রাত ১২ টা ৩০ মিনিটে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। ঢাকাই সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও তার দুই বছরের মাথায় নায়কের তালিকায় নাম লিখিয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন আকাশচুম্বী। বাংলা চলচ্চচিত্রের অ্যাকশন এবং লোক ফ্যান্টাসির নায়ক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি।

অভিনেতা ওয়াসিমের পুরো নাম মেজবাহউদ্দীন আহমেদ। ১৯৪৭ সালে ২৩ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তিনি পড়াশোনায় ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কলেজের ছাত্রাবস্থায় তিনি বডি বিল্ডার হিসেবে নাম করেছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি বডি বিল্ডিং এর জন্য ইস্ট পাকিস্তান খেতাব অর্জন করেছিলেন। ১৯৭২ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে প্রখ্যাত পরিচালক এস এম শফীর হাত ধরে ‘ছন্দ হারিয়ে গেলো’ সিনেমার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক ঘটে তার। সেখানে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ওয়াসিম। এরপর ১৯৭৪ সালে বিখ্যাত নির্মাতা মহসিন পরিচালিত ‘রাতের পর দিন’ সিনেমাতে প্রথমবারের মতো নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন অভিনেতা ওয়াসিম। সিনেমার ব্যাপক সাফল্যে রাতারাতি সুপারস্টার হয়ে যান তিনি।

প্রায় দেড়শ’র মতো সিনেমায় ওয়াসিম নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন। ৭০ দশক এবং ৮০ দশকে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়কদের মধ্যে একজন ছিলেন। তার অভিনীত অল্প কিছু সিনেমা ছাড়া প্রতিটি সিনেমা সুপারহিট হয়েছিল। তার অভিনীত সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমা ‘দ্য রেইন’। বিশ্ববাসীর কাছে এই সিনেমার মধ্য দিয়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। পৃথিবীর ৪৬টি দেশে ‘দি রেইন’ মুক্তি পেয়েছিল। ছবিতে ওয়াসিমের নায়িকা অলিভিয়া। পরবর্তী সময়ে ওয়াসিম-অলিভিয়া জুটি বেঁধে বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন। ‘বাহাদুর’ এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া লুটেরা, লাল মেম সাহেব, বেদ্বীন প্রভৃতিও সফল হয়েছিল।  

এছাড়াও শাবানা, সুচরিতা, অঞ্জু ঘোষ, সুজাতা প্রমুখের বিপরীতেও তিনি অভিনয় করেছিলেন। তবে শাবানা আর অলিভিয়ার সঙ্গে ওয়াসিম যেসব ছবিতে অভিনয় করেছেন তার প্রতিটিই ব্যবসাসফল হয়েছিল। ‘রাজ দুলারী’তে ওয়াসিম ও শাবানার অভিনয় সেদিন দর্শকদের দারুণ মুগ্ধ করেছিল। ছবিতে তাদের মুখের গানগুলো ছিল দর্শকের মুখে মুখে ফেরে।

ব্যক্তিগত জীবনে ওয়াসিম বিয়ে করেছিলেন চিত্রনায়িকা রোজীর ছোট বোনকে। তাদের দুটি সন্তান হয় – পুত্র দেওয়ান ফারদিন এবং কন্য বুশরা আহমেদ। ২০০০ সালে তার স্ত্রীর অকালমৃত্যু ঘটে। ২০০৬ সালে ওয়াসিমের কন্যা বুশরা আহমেদ চৌদ্দ বছর বয়সে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পাঁচতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে ছেলে ফারদিনকে নিয়ে একাই থাকতেন তিনি। ২০১৬ সালে কমিটমেন্ট সাংস্কৃতিক একাডেমি থেকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করে হয়েছিল তাকে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। অতঃপর শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টায় রাজধানীর শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিত্রনায়ক ওয়াসিম মৃত্যুবরণ করেন।

Link copied!