বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর ২৫ বছর আজ। ১৯৯৬ সালের আজকের দিনে (৬ সেপ্টেম্বর) রহস্যজনক এক কারণে জীবন-সংসারের ইতি টানেন সালমান শাহ।
১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জে জন্ম নেন সালমান শাহ। পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন হলেও সিনেমার পর্দায় তিনি ছিলেন শুধুই সালমান শাহ। পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরীর বড় ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন সালমান শাহ হয়েছিলেন ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে।

ঢাকাই সিনেমার নায়ক হওয়ার আগে সালমান শাহর ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল টেলিভিশন নাটক দিয়ে। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন এই তুমুল জনপ্রিয় নায়ক। এরপর অভিনয় করেছেন—দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফেরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮), নয়ন (১৯৯৫) এবং সবশেষ স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬) নাটকে।
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয়ের পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি সালমান শাহকে। চার বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ২৭ সিনেমায় অভিনয় করে পেয়েছেন আকাশসমান জনপ্রিয়তা। এক শাবনূরের সঙ্গেই জুটি বেঁধে কাজ করেছেন ১৪টি সিনেমায়। উপহার দিয়ে গেছেন বাংলা সিনেমার এক সোনালি অধ্যায়।

তবে সালমান শাহর ওপর ভর করে যখন ঢাকাই চলচ্চিত্র সফলতার মুখ দেখছিল, ঠিক সে সময় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সকালে রহস্যজনক এক কারণে জীবন-সংসারের ইতি টানেন সালমান শাহ। রাজধানী ঢাকার ইস্কাটনে নিজ বাসভবনে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যা বলা হলেও তাঁর মৃত্যু নিয়ে এখনো রহস্য কাটেনি ভক্তমনে।
‘স্বপ্নের নায়ক’ ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ থেকে বিদায় নিলেও আজও সালমান শাহ আছেন ভক্তদের ‘অন্তরে অন্তরে’। আছেন ঢাকাই সিনেমার ‘স্বপ্নের ঠিকানায়’।

আজ সালমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা কোটি ভক্তরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন নানা আয়োজনে। কেউ লিখছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কেউ আবার মিলাদ মাহফিলেরও আয়োজন করছেন। এভাবেই যুগ থেকে যুগে সবার কাছে চিরসবুজ অমর নায়ক হয়ে বেঁচে থাকবেন সালমান শাহ।