বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ একজন সফল অভিনেতা হিসেবেই পরিচিত সবার কাছে। সিনেমায় বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করলেও মহামারি করোনাকালীন সময়ে তাঁকে দেখা গিয়েছে ভিন্ন এক চরিত্রে। মুক্ত হস্তে সবাইকে সাহায্য করেছেন নিজের সাধ্যমত এবং কাউকেই খালি হাতে ফেরাননি তিনি। তবে সম্প্রতি এই জনপ্রিয় অভিনেতার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ তুলেছেন দেশটির আয়কর বিভাগ।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আয়কর বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ২০ কোটি রুপির বেশি কর ফাঁকি দিয়েছেন সোনু সুদ এবং তাঁর সহকর্মীরা। গত তিনদিন ধরে সোনু সুদের বাসাসহ বিভিন্ন সংস্থায় অভিযান চালিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসে। কর ফাঁকিসহ আরো বেশকিছু অভিযোগও রয়েছে সোনু সুদ এবং তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অভিনয়ের পাশাপাশি সোনু সুদ একটি নন প্রফিট চ্যারিটি ফাউন্ডেশন পরিচালনা করেন। এই চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তাঁর সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হত। তবে এখন পর্যন্ত ১৮ কোটি টাকার সমতুল্য সাহায্য অনুদান পেলেও এরমধ্যে প্রায় ১.৯ কোটি টাকার মত খরচ করেছেন এবং বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রেখেছেন। অপরদিকে আয়কর বিভাগের দাবি ক্রাউড ফান্ডিং এর মাধ্যমে সোনু সুদ বিদেশ থেকে প্রায় ভারতীয় মুদ্রায় ২.১ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে নিয়ে আসেন যা কিনা বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে এনেছেন।

বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মুম্বাইতে সোনুর প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালায় আয়কর বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিনে অভিনেতার সঙ্গে যুক্ত মুম্বাই, লখনউ, কানপুর, জয়পুর, দিল্লি এবং গুরুগ্রামের মোট ২৮টি জায়গায় অনুসন্ধান চালিয়েছেন ইনকাম ট্যাক্স কর্মকর্তারা। এই অভিযান চলাকালিন সময়েই মূলত কর ফাঁকির তথ্য বেরিয়ে আসে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব অভিযোগ ছাড়াও ৬৫ কোটি রুপির ভুয়া লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে এবং এর সঙ্গে তদন্তকাররীরা বেশকিছু ভুয়া ঋণেরও হদিস পেয়েছেন। অর্জিত নগদ টাকা চেক ইস্যু করে ব্যবহার করা এবং নানাভাবে সম্পত্তি কিনতে বিনিয়োগ করার ঘটনাও বেরিয়ে এসেছে।