অগণিত ভক্ত ও গুণগ্রাহীর চোখের জলে বিদায় জানানো হলো উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুরকার ও জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী বাপ্পি লাহিড়িকে। এসময় স্বজনদের কান্নার রোল আর হাজারও মানুষের দীর্ঘশ্বাসে ভারি হয়ে ওঠে মুম্বাইয়ের ভিলে পার্লে শ্মশান। চোখের জলে এ কিংবদন্তিকে বিদায় জানান সবাই। একানেই শেষ হয় তার সৎকার পর্ব।

আনন্দবাজার, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে বাপ্পি লাহিড়ির শেষকৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন শুরু হয়। পরে বাপ্পির মরদেহ নিয়ে মুম্বাইয়ের ভিলে পার্লে শ্মশানের উদ্দেশে যাত্রা করেন পরিবারের সদস্যসহ অন্যরা। পৌনে ১১টার দিকে শ্মশানে পৌঁছান তাঁরা।

শ্মশানের উদ্দেশে যাওয়ার পথে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাপ্পি লাহিড়ির মেয়ে রিমা লাহিড়ি। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও খবরে প্রকাশ। দুপুর দেড়টার দিকে শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

লতা মঙ্গেশকর ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের পর চলে গেছেন আরেক কিংবদন্তি। মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে মুম্বাইয়ের জুহুর ক্রিটিকেয়ার হাসপাতালে জীবনাবসান হয়েছে উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক বাপ্পি লাহিড়ির। মাত্র ৬৯ বছরে থেমে গেছে তাঁর সুর।

গতকাল বুধবার তাঁর শেষকৃত্য হয়নি। একমাত্র ছেলে বাপ্পা লাহিড়ির পথ চেয়ে বসেছিল পরিবার। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ভোরে মুম্বাইয়ে ফেরেন বাপ্পা। বিমানবন্দরে স্ত্রী-পুত্রসহ ক্যামেরাবন্দি হন বিধ্বস্ত বাপ্পিপুত্র।

বৃহস্পতিবার শেষ বারের মতো দেখার জন্য জড়ো হয়েছেন ঘনিষ্ঠরা। মেয়ে রেমা লাহিড়ি কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নিজের বাবাকে বিদায় জানাতে গিয়ে৷ ছেলে বাপ্পা লাহিড়ি বাবাকে কাঁধ দিয়েছেন। শোক ভরা এক সকাল। কিন্তু একমাত্র একজনই তাঁর রাজকীয় সত্তাতেই বিরাজমান। তিনি ‘ডিস্কো কিং’। তিনি বাপ্পি লাহিড়ি।
শেষ যাত্রায় তাঁর গায়ে সোনা ওঠেনি বটে, কিন্তু কালো চশমায় চোখ ঢাকা হয়েছে তাঁর। জীবনের শেষ বেলা পর্যন্ত যে কালো চশমা তাঁর সঙ্গী ছিল, সৎকারের আগেও সেটি তাঁর সঙ্গেই।

বাপ্পির শেষ যাত্রার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে নেটমাধ্যমে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বাপ্পা-সহ আরও কয়েক জন প্রয়াত সুরকারকে তাঁর বাড়ি থেকে শববাহী গাড়িতে তুলছেন। দেহ সাজানো হয়েছে ফুলের মালায়। চোখে পরানো হয়েছে কালো চশমা। শববাহী গাড়িকেও ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। গাড়ির মাথায় রয়েছে বাপ্পির হাসিমুখের এক ছবি। তাঁর রাজকীয় শেষ যাত্রা দেখতে হাজির অজস্র মানুষ।

হিন্দি চলচ্চিত্র অঙ্গনে সংগীতের দশা ও দিশা দুটোই বদলে গিয়েছিলেন এই বাঙালি সংগীতশিল্পী। ডিসকো সংগীতের অবিসংবাদিত রাজা ছিলেন সবার প্রিয় বাপ্পিদা।মঙ্গলবার রাতে জুহুর ক্রিটিকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাপ্পি লাহিড়ি।