কলকাতার সঞ্চালক-অভিনেতা মীর আফসার আলী। রেডিও জগতে সবচেয়ে জনপ্রিয় তিনি। ঘুম থেকে উঠেই পশ্চিমবঙ্গের শ্রোতারা যেন রেডিও মির্চিতে মানুষটির কণ্ঠ শুনতে কান রাখেন। প্রায় তিন দশকের এই ছন্দে এবার পতন ঘটতে যাচ্ছে। রেডিও মির্চির সঙ্গে দীর্ঘ ২৭ বছরের সম্পর্কের ইতি টানলেন মীর। প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সকালে ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই দুঃসংবাদ দেন মীর। আকাশবাণীর রেডিও স্টেশনে বসা তার প্রথম দিনের ছবিও শেয়ার করেন। তাতে মীর বলেন—‘১৯৯৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন। রেডিওর সঙ্গে এই ২৭ বছর সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলাম। আমায় শোনার জন্য সবাইকে ভালোবাসা, অভিবাদন। মির্চি ছেড়েছি, তবে রেডিও নয়। কষ্ট হচ্ছে একটু। ওই ৯৮.৩ শতাংশর মতন। গল্পের পরবর্তী অংশ ব্রেকের পর।’
২৭ বছরের সম্পর্কের ইতি টানায় কষ্ট শুধু মীরের একা হচ্ছে না; ব্যথিত তার ভক্ত-শ্রোতারাও। কমেন্টস সেকশন ঘুরে তেমনটাই দেখা যায়। সুস্মিতা লিখেছেন, ‘মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।’ মৌমিতা রায় লিখেছেন, ‘জাস্ট মানতে পারছি না। সানডে সাসপেন্স, শার্লক হোমসের কি হবে! ৯৮.৩ শতাংশ ভালোবাসাটা তো তোমার জন্যই ছিল আর থাকবেও, ভালো থেকো মীরদা।’
রূপম মুখার্জি নামে একজন লিখেছেন, ‘সেকি! ভোরবেলা কাজে বেরোতে হয়, জগন্নাথ বসুর কালীকথার পরই সকালম্যান মীরের অপেক্ষায় থাকি! এই রাজ্য থেকে ওই রাজ্য ড্রাইভ করে যাওয়ার সময়েও মনোটনি কাটাতে পেন ড্রাইভে লোড করে নিয়েছি কয়েকটা সানডে সাসপেন্স। একটু দূরে গেলেই তো আর রেডিও কাজ করে না। এবার কী হবে! আপনি মশাই এসে আমায় গল্প শুনিয়ে যাবেন।’
মীরের আকস্মিক এই ঘোষণায় হতবাক ভক্তরা। তাদের মন খারাপের কথা জানাচ্ছেন। তবে কারোর মন্তব্যেরই জবাব দেননি মীর। সবাই অধীর আগ্রহে তাই অপেক্ষা করছেন, নতুন কী খবর দেন সকালম্যান, সেটা জানার জন্য।