বলিউডের ‘কিং অফ রোমান্স’ শাহরুখ খান। বলিউড বাদশাহ নামেও সমধিক পরিচিত শাহরুখ খান এবার পা দিলেন জীবনের ৫৬ তম বসন্তে। ১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু তার। অভিনয় এবং অসাধারণ ব্যক্তিত্ব নিয়ে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা জয় করে নিয়েছেন। আজ ২ নভেম্বর তার জন্মদিন। দিনটি এবারই প্রথম ভিন্নভাবে পালন করছেন কিং খান।
গত অক্টোবর মাসের ২ তারিখে ভারতের নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) হাতে আটক হয়েছিলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান। কয়েক দিন ধরে সারাবিশ্বের গণমাধ্যমে বেশ আলোচিত বিষয় ছিলো এটি। ইতিমধ্যে আরিয়ান জামিন পেয়েছেন। এর মধ্যেই আজ ৫৬ বছরে পা দিলেন শাহরুখ খান। দিনটি তার ভক্তদের জন্য স্পেশাল। তবে অন্যান্য বছরের থেকে এই বছর শাহরুখের জন্মদিনটা একদমই আলাদা।
সদ্য বড় ছেলে আরিয়ান খানের নাম মাদককাণ্ডে জড়ানোর নানান প্রশ্নে বিদ্ধ হয়েছে তিনি। এ বছর জন্মদিনটা কোথায় কাটাবেন শাহরুখ? আদৌও কোনও জন্মদিনের উৎসব হবে? এমন প্রশ্ন সবার মনে।
১৯৬৫ সালের ২ নভেম্বর দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন শাহরুখ। আজকের এই শাহরুখ খান দিল্লির থিয়েটার একশন গ্রুপের মধ্য দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন। এরপর ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতে পড়াশোনা। ফৌজি, সার্কাসের মতো টেলিভিশন সিরিয়ালে কাজ করে নজর কাড়েন বোদ্ধাদের।
‘দিল আশনা হেয়’ চলচ্চিত্র দিয়ে বলিউডে অভিষেক হলেও তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র দিওয়ানা এনে দেয় ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। এরপর চমৎকার, রাজু বানগেয়া জেন্টলম্যানের মত মেলো-রোমান্টিক ধারার চলচ্চিত্র পরিচিত এনে দেয়। ১৯৯৩ সালে বাজিগর ও ডর সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে শুরু হয় দিগ্বিজয় যাত্রা।

‘দিল ওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েনগে’, ‘কয়লা’, ‘পরদেশ’, ‘ইয়েস বস’, ‘দিল তো পাগল হেয়’, ‘দিল সে’, ‘কুছকুছ হোতা হেয়’, ‘বাদশাহ’, ‘মোহাব্বাতে’, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’, ‘দেবদাস’, ‘শক্তি’র মত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ভক্তদের কাছে বাদশাহ খেতাব পান তিনি।
‘স্বদেশ’, ‘ভিরজারা’, ‘ডন’, ‘চাক দে ইন্ডিয়া’, ‘ওম শান্তি ওম’, ‘রা ওয়ান’, ‘জাব তাক হেয় জান’, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’, ‘ফ্যান, রইস’, ‘জিরো’র মত জনপ্রিয় সব চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ১৪ বার পেয়েছেন ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার।
ভারত সরকারের পদ্মশ্রী, ফ্রান্স সরকারের অদ্র দে আর্ত এ দে লেত্র সম্মাননার পাশাপাশি পৃথিবীর পাঁচটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান সূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন শাহরুখ। প্রতিবছর শাহরুখের জন্মদিনে মান্নাতের সামনে ভিড় জমায় ভক্তরা। ভক্তদের ভালবাসার কৃতজ্ঞতা জানাতে হাজির থাকেন কিং খানও।
শাহরুখ ও তার স্ত্রী গৌরী খানের পরিচিতমহলের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, মাসকয়েক আগে থেকে আলিবাগের আলিশান বাড়িতে শাহরুখের জন্মদিন পালন করার প্ল্যান করে রেখেছিলেন তারকা দম্পতি। আব্রামেরও তেমনই ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সব প্ল্যানিং নাকি ভেস্তে গিয়েছে গত একমাসের ঘটনায়। আলিবাগ যেতে হলে কোলাবা থেকে জলপথে রওনা দিতে হবে শাহরুখ-গৌরীদের। পাপারাতজিদের ভিড় মান্নাতের বাইরে সারাক্ষণ লেগে রয়েছে। এই অবস্থায় কোনওভাবেই আরিয়ানকে নিয়ে আলিবাগে যাওয়ার রিস্ক নিতে রাজি নন শাহরুখ। তাই মান্নাতেই ঘরোয়াভাবে জন্মদিনটা কাটাবেন তিনি।
শাহরুখের সিনেমা মানেই ভক্তদের কাছে বাড়তি উন্মাদনা। দুই দশকের বেশি সময় ধরে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দেওয়া শাহরুখের সেরা কিছু সিনেমা হলো:
![]()
ডর
ছবিটি পরিচালনা করেছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার যশ চোপড়া। ভালবাসা সফল না হওয়ার ভয়, ভালবাসার প্রতিদান না পাওয়ার ভয়, ভালবাসার মানুষকে হারানোর ভয় থেকেই সিনেমাটির গল্প। অসাধারণ এই সিনেমাটিতে শাহরুখের বিপরীতে অভিনয় করেছেন জুহি চাওলা। ১৯৯৩ সালের শাহরুখের কালজয়ী এই সিনেমাটি ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে
নব্বই দশকের সাড়া জাগানো ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ ছবিতে শাহরুখ খান ও কাজল জুটির অনবদ্য অভিনয় অগণিত দর্শকের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সফল এ ছবির কল্যাণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় শাহরুখ-কাজল জুটি। ১৯৯৫ সালের ২০ অক্টোবর মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রটি ভারতে ১.০৬ বিলিয়ন এবং দেশের বাইরে ১৬০ মিলিয়ন আয় করে সেই বছরে বলিউডের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে এবং এটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসেও অন্যতম সফল চলচ্চিত্র।

করণ অর্জুন
‘মেরে করণ অর্জুন আয়েঙ্গে’ নব্বইয়ের দশকের সব বাচ্চারাই এই ডায়লগ শুনে বড় হয়েছে। পরিচালক রাকেশ রোশনের এই ছবিই রূপোলি পর্দায় প্রথমবার একসঙ্গে হাজির করেছিল বলিউডের শক্তিশালী দুই খান শাহরুখ ও সালমানকে। ১৯৯৫ সালের ১৩ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছিল করণ অর্জুন। এ ছবিটি সহজভাবেই ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সবচেয়ে হিট ছবির তকমা পেতে পারত। তবে দুর্ভাগ্যবশত সেই বছরই মুক্তি পায় দিলওয়ালে দুলহানিয়া লেযাঙ্গে। যা বক্স অফিসের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল।

দিল সে
চলচ্চিত্র পরিচালক মণি রত্নম পরিচালিত ‘দিল সে’ ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৮ সালে। ছবিটির মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান, মনীষা কৈরালা ও প্রীতি জিন্তা। উল্লেখ্য এটিই প্রীতি জিন্তা অভিনীত প্রথম বলিউড চলচ্চিত্র। সিনেমাটির আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এটিকে ভারতের প্রথম কোনো সিনেমা হিসেবে ইউকে সিনেমা চার্টে সেরা দশে জায়গা করে দেয়।
কুচ কুচ হোতা হ্যায়
এই সিনেমায় চতুর্থবারের মত কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন জনপ্রিয় পর্দা জুটি শাহরুখ খান ও কাজল। সঙ্গে ছিলেন রানি মুখার্জি। ত্রিভূজ প্রেমের কাহিনী-নির্ভর চলচ্চিত্রটি বলিউডে ছবিটি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করে। চলচ্চিত্রটি একাধিক পুরস্কার অর্জন করে। তন্মধ্যে রয়েছে শ্রেষ্ঠ সুস্থ্য বিনোদন প্রদানকারী জনপ্রিয় চলচ্চিত্র বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, জি সিনে পুরস্কার, স্ক্রিন পুরস্কার ও বলিউড মুভি পুরস্কার।
চলচ্চিত্রটি আটটি বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করে এবং একমাত্র চলচ্চিত্র হিসেবে অভিনয়ের চারটি বিভাগে তথা শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী, শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা ও শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে পুরস্কার লাভ করে।

কাভি খুশি কাভি গাম
শাহরুখ খানের ক্যারিয়ার রঙিন করা আরও একটি দুর্দান্ত সিনেমা ‘কাভি খুশি কাভি গাম’। করণ জোহর আবারও সুপারহিট জুটি শাহরুখ-কাজলকে ফিরিয়ে আনেন এই সিনেমায় ২০০১ সালে। তাদের সঙ্গে ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চন জুটিও। আর নতুন জুটি হিসেবে সেই ছবিতে আলো ছড়িয়েছেন হৃতিক রোশন ও কারিনা কাপুর। তারকাবহুল ছবিটি দারুণ সাড়া ফেলেছিলো বক্স অফিসে। উইকিপিডিয়া বলছে, চলচ্চিত্রটি প্রথম দিন সাত কোটি এবং সপ্তাহান্তে ১৪ কোটি রুপি আয় করে যা সেই সময়ের রেকর্ড ছিল। এই চলচ্চিত্রটি মোট ১৭১.২৯ কোটি আয় করে সে বছরের সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমা হিসেবে শীর্ষ স্থান দখল করে নেয়।

দেবদাস
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস দেবদাস অবলম্বনে নির্মাণ করা হয় ছবিটি। এটি দেবদাস গল্পের তৃতীয় বলিউড (হিন্দি) সংস্করণ এবং হিন্দিতে প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র সংস্করণ। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সঞ্জয় লীলা বানসালি। এখানে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান। সঙ্গে চন্দ্রমুখী চরিত্রে আছেন মাধুরী দীক্ষিত এবং পার্বতী চরিত্রে ঐশ্বরিয়া রাই।
দেবদাস বক্স অফিসে একটি বিশাল আলোড়ন তুলেছিল। ছবিটি ভারতীয় মুদ্রায় ৬৯ কোটি রুপি আয় করেছিল। ২০০২ সালের সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কৃতও হয় ‘দেবদাস’।’