চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কার্যকরী সদস্য পদে জয়লাভ করা সত্ত্বেও এতদিন শপথ গ্রহণ করেননি ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী। তবে সব মান অভিমান ভুলে রবিবার শপথ নিয়েছেন ঢালিউডের এই প্রিয়দর্শনী অভিনেত্রী।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ও নেতৃত্ব ঘিরে গত ৯ মাস ধরে দুই ভাগে বিভক্ত ছিল ঢাকাই সিনেমার শিল্পীরা। বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে নিপুণ আক্তার ও জায়েদ খানের মধ্যে ব্যাপক কোন্দল দেখা দেওয়ায় মিমাংসার জন্য তা আদালতে গড়ায়। তবে চূড়ান্তভাবে আলাদত রায় দিয়েছে, নিপুণই সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকবেন।

আদালতের রায় নিজের পক্ষে যাওয়ায় পুরোদমে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন নিপুণ আক্তার। জায়েদ খানের প্যানেল থেকে নির্বাচিতরা এতদিন সমিতি থেকে দূরে থাকলেও অবশেষে নিপুণকে মেনে নিয়েছেন। নায়িকা মৌসুমী শপথ নিয়েছেন। একই প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডিপজল ও রুবেলও এসেছেন সমিতিতে।
রবিবার বিকেলে সমিতির কার্যকরী কমিটির মিটিং হয়। সেই মিটিংয়ের নেতৃত্ব দেন সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন এবং সাধারণ সম্পাদক নিপুণ।
এ বৈঠকে অংশ নেয়ার জন্য মিশা-জায়েদ খানের প্যানেল থেকে বিজয়ীদের অংশগ্রহণ করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ সহসভাপতি ডিপজল ও রুবেল। তারা জানান, আলাদত যেহেতু কদিন আগে রায় দিয়েছে, তাই তারা নিপুণকে অফিশিয়ালি বরণ করেছেন।

শিল্পী সমিতির মিটিংয়ে দুই প্যানেল থেকে নির্বাচিত প্রত্যেক সদস্যই নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে এক হয়েছিলেন। উপস্থিত ছিলেন নির্বাচিত কমিটির রিয়াজ, সাইমন, ইমন, জয় চৌধুরী, অঞ্জনা, কেয়া, জাদু আজাদ, আরমান, জেসমিন, নাদির খান, শাহনূরসহ অনেকেই।
শিল্পী সমিতির সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক ইমন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মৌসুমী আপা আজ (রবিবার) শপথ নিয়েছেন। পাশাপাশি ডিপজল ভাই, রুবেল ভাইসহ নির্বাচিত প্রত্যেকেই শিল্পী সমিতিতে এসেছিলেন। তারা নিপুণকে বরন করে নিয়েছেন। আমাদের মধ্যে এখন আর কোনো বিভেদ নেই।
জনপ্রিয় খল অভিনেতা ডিপজল বলেন, সমিতির মধ্যে বিভাজন ও দ্বন্দ্ব চাইনি, পছন্দও করিনি। বরাবরই বলে এসেছি, চলচ্চিত্র ও শিল্পীদের স্বার্থে আমাদের একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে হবে। নীতিগতভাবে আমাদের প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানকে আমরা সমর্থন দিয়ে এসেছি। যেহেতু বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই আমরা আদালতের রায়ের অপেক্ষা করেছি।

ডিপজল আরও বলেন, ‘আদালতের তরফ থেকে জানা গেছে, নিপুণের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মিটিংয়ে অংশ নিয়ে সমিতির কার্যক্রম গতিশীল করা আমার দায়িত্ব। সদস্যরা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আমি যদি সেই দায়িত্ব পালন না করি, তাহলে তাদের কাছে কী জবাব দেব?