বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে আর কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি দেখতে চাননা ঢাকাই চলচ্চিত্রের মুভিলর্ড খ্যাত মনোয়ার হোসেন ডিপজল। সোমবার গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন।
সোমবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে নতুন আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয় হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদে স্থিতিবস্থাও বহাল রাখা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চের আদেশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খলনায়ক ডিপজল বলেন, “‘অনেক কাদা ছোড়াছুড়ি হয়েছে। আর কাদা ছোড়াছুড়ি চাই না। এক নির্বাচন নিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আমাদের শিল্পীদের মান-সম্মান বলতে কিছু থাকছে না।”
তিনি বলেন, “এখন আদালতের রায়ে যে-ই সাধারণ সম্পাদক হোক, তাকেই মেনে নিতে হবে। পরস্পরকে সহযোগিতা করতে হবে। শিল্পীদের মাঝে বিভাজন থাকা ভালো নয়। এর অবসান এখনই করতে হবে। এ নিয়ে আর কোনো কথা বাড়ানো উচিত নয়।”
খ্যাতনামা এই অভিনেতা আরও বলেন, “শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আগে সারাদেশের মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ছিল। নির্বাচনের পর যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সুনামের পরিবর্তে বদনাম হচ্ছে। এক নির্বাচনে এত বদনাম আর কখনো হতে দেখিনি।”

প্রথম ছবি টাকার পাহাড় চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হওয়া এই নায়ক আরও বলেন, “শিল্পীদের শিল্পীর মতোই আচরণ ও কথাবার্তা বলতে হবে। এমন কিছু করা বা কথা বলা ঠিক না, যাতে অসম্মান হয়। এমনিতেই সিনেমা নাই, তার উপর নির্বাচনি কোন্দল নিয়ে মানুষ হাসাহাসি করছে। নানা সমালোচনা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, “ অনেকে বলছেন সিনেমার খবর নেই, সমিতির নির্বাচন নিয়ে টানাটানি। এবার এসব ক্ষ্যান্ত দেওয়া দরকার। আর একসুতাও আগানো উচিত নয়।”

শিল্পীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এই সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, “‘আলোচনা-সমালোচনা, পক্ষ-বিপক্ষে কথা না বলে, আসুন আমরা সবাই একসঙ্গে মিলেমিশে থাকি। চলচ্চিত্রের উন্নয়ন কীভাবে করা যায় সেটা নিয়ে ভাবি, কাজে মন দিই।”