‘শনিবার বিকেল’ কেনো মুক্তি পাচ্ছে না তা আপনাদের মতো আমিও জানি না,সেন্সর বোর্ড সিনেমাটি দেখে বললো আমরা সার্টিফিকেট দিয়ে দিচ্ছি।পরের দিন ওয়াজের লিংক বের হওয়ার পর সিনেমাটি আবারও দেখার জন্য জানায় সেন্সর বোর্ড। তার চারদিন পর বলে যে সেন্সর দেয়া যাবে না। পরে আমরা আপিল করি। বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরি। এরপর সাড়ে ৩ বছর পার হয়ে গেছে। এখনও আমরা জানার জন্য অপেক্ষা করছি কেনো আপিল বোর্ড সার্টিফিকেট দিচ্ছে না। বৃহস্পতিবার নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীদের ‘বাংলা চলচ্চিত্র বা কনটেন্টে সেন্সরশিপের খড়্গ গল্প বলার স্বাধীনতা চাই’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনের এ কথা বলেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
তিনি আরও বলেন, শিল্প কর্ম হলও হেডলাইনের মতো ,আপনি যদি মনে করেন হেডলাইন বন্ধ করে দিয়ে সামনে বিপদ নাই। তাহলে কোন লাভ নাই যদি হেডলাইন থাকে তাহলে আপনি সামনে দেখতে পাবেন।
এ সময় একান্ত আলাপচারিতায় হাওয়া চলচ্চিত্রের নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, ছবিতে খাঁচার ভেতরের পাখিটা আমি অবমুক্ত করে দিয়েছি। সিনেমা আর রিয়েলিটি এক নয়। এটা খুব দুঃখজনক। সামনে আরেকটা সিনেমা তৈরি করব। সেই সময় দেখা যাবে আরও দশটা সমস্যা তৈরি করবে। তখন দেখা যাবে আমি নিজে খাঁচার ভেতরে ঢুকে যাচ্ছি!
তিনি বলেন, আমাদের এই জায়গায় থেকে বের হতে হবে। হাওয়ার মতো একটি চলচ্চিত্র নিয়ে এমনটা আমরা আশা করি না। এটি বিব্রতকর। শিল্পের প্রতি দায় থেকে আমরা কাজ করি, অনেকের শ্রম ও মেধা ব্যয় হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নির্মাতা ও শিল্পী কলাকুশলীদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা উপস্থাপনা করেন পরিচালক নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। পাঁচ দফা দাবি হলো-
১. ‘হাওয়া’ চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
২. ‘শনিবার বিকেলে’ চলচ্চিত্র কেন সেন্সর ছাড়পত্র পেল না তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই।
৩. বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড বাতিল করতে হবে ও প্রস্তাবিত চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইনের ক্ষেত্রে সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন প্রণয়ন করতে হবে।
৪. প্রস্তাবিত ওটিটি নীতিমালার ক্ষেত্রে সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ওটিটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
৫. চলচ্চিত্র বা কনটেন্টবিষয়ক কোনো মামলা দায়ের করার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (যেমন- খসড়া ওটিটি নীতিমালায় প্ল্যাটফর্মগুলোতে আলাদা কমিশন বোর্ড তৈরির প্রস্তাব আছে এ জাতীয় কোনো কর্তৃপক্ষের) সঙ্গে আলোচনা করে নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে চলচ্চিত্র পরিচালক নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘বাংলা চলচ্চিত্র বিকাশের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক একটা পরিবর্তন ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। এমন সময় ‘হাওয়া’র বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হলো। ‘শনিবার বিকেলে’ মুক্তি পাচ্ছে না দুই বছর ধরে। তরুণরা নতুন সহস্রাব্দের চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে।’
শিল্পের বাস্তবতা থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিল্পের ভাষা যেটা-সেটা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা থাকতে হবে শিল্পীর। সংবিধানেও মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।’
দাবি আদায়ে প্রাথমিক কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে সংবাদ সম্মেলন থেকে। জানানো হয়, আগামী সেপ্টেম্বরে একটি গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিচালক নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, মোরশেদুল ইসলাম, মেজবাউর রহমান সুমন, কামার আহমেদ সাইমন, অমিতাভ রেজা, পিপলু আর খান, নুরুল আলম আতিক, অভিনেতা তারিক আনাম খান, চঞ্চল চৌধুরী, আফরান নিশো, ইরেশ যাকের, অভিনেত্রী শম্পা রেজা, আফসানা মিমি, জয়া আহসান, আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারি মম, জোতিকা জ্যোতি, নাজিফা তুষিসহ শিল্প-সংস্কৃতির আরও অনেকে।