জাতীয় চলচ্চিত্র ২০২০ সালে সেরা গায়িকা হিসেবে প্রথমবার পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন কোনাল। ‘বীর’ চলচ্চিত্রে ‘ভালবাসার মানুষ তুমি’ গানটির জন্য এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। কিন্তু গানটি নকল দাবি করে পুরস্কার পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন চলচ্চিত্রটির স্বয়ং প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল। মৌলিক গান ছাড়া কীভাবে জাতীয় পুরস্কার পায়, এটি নিয়ে বিব্রত হয়েছেন তিনি। এদিকে বাছাই কমিটির মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু।
ঘোষণার সাথে সাথেই বিতর্ক
নায়ক শাকিব খান অভিনীত ও কাজী হায়াতের পরিচালনায় ‘বীর’ চলচ্চিত্রে ‘ভালোবাসার মানুষ তুমি’ শিরোনামে গানে কণ্ঠ দিয়ে সেরা গায়িকা হিসেবে প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন কোনাল। এরপর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। বেশ কিছু গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই গানের জন্য কোনালের পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টিকে সমালোচনার দৃষ্টিতে দেখছেন। গানটিতে একটি পুরনো জনপ্রিয় গানের লাইন অনুমতি ছাড়াই ব্রিজলাইন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন। এমন গানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিয়ে কপিরাইট আইনকে খাটো করা হয়েছে। সেইসঙ্গে অন্যের গান অনুমতি ছাড়া ব্যবহারেও উৎসাহিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
যাচাই ছাড়াই পুরস্কার দেয়া হয়েছে
শনিবার এফডিসিতে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এই সমালোচনা ও বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন ছবিটির প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি বলেন, ‘দুদিন যাবত সাংবাদিক ভাইদের প্রশ্নে আমি খুব বিব্রত। অনেক নিউজও হয়েছে দেখেছি। অনেকে প্রশ্ন করেছে গানটির কথা ও সুর কি নকল? আমি বলেছি এই গানের কথা নকল সুরও নকল। ‘আমি মৌখিকভাবে কথা বলেছি গানটি নিয়ে। অনুপমের সাথে লিখিত কোনো ডুকুমেন্ট নাই। অন্য একটি সিনেমা থেকে দুটি জনপ্রিয় লাইন এ গানে ইউজ করা হয়েছে। এ গান কেমন করে পুরস্কার পেল বুঝলাম না। আমি দেখে আসছি যারা মৌলিক গান গেয়ে থাকে তারাই এই পুরস্কার পায়। আমাদের গানটি সেরা শিল্পী ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই আমি বির্তকের মুখে রয়েছি।
ইকবাল আরও বলেন,জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তো সকলে পায় না। তাই জাতীয় পুরস্কার যেন যাচাই বাছাই করে দেওয়া হয়। যদি যাচাই বাছাই করা হতো তাহলে কোনাল এই পুরস্কার পেত না। আমার হিসেবে এই গানটি কখনোই জাতীয় পুরস্কার পেতে পারে না।
'বীর' সিনেমা তো আপনার, পুরস্কার পেলে আপনার ভালো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবাই নিজের স্বার্থ দেখে। কিন্তু আমি অন্যায়কে কখনোই সাপোর্ট করিনা। এটা নিয়ে অনেক যাচাই বাছাই করা উচিত ছিলো। আর এই পুরস্কার যদি পায় সারাজীবনের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতর্ক থেকে যাবে। অনেকে ভাবছে আমি তদবির করেছি কিন্তু আমি তদবির করতে যাবো কেন! এটা কখনোই সম্ভব না।
তিনি আরও বলেন, তবে আমি এর কোনো দায় নিতে চাই না। আপনারা জুরি বোর্ডকে জিজ্ঞেস করুন তারা কি করে এই সিনেমায় পুরস্কার দিয়েছে। যারা আমাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি করতে চাইছেন বা সমালোচনা করছেন তাদের আমি স্পষ্ট করে বিষয়টি বলে দিতে চাই। সৃষ্টিশীলতা নিয়ে আমি কোনো কূট কৌশলে যেতে রাজি নই। সিনেমা করি ভালোবাসার জায়গা থেকে। স্বীকৃতির যোগ্য হলে আপনা থেকেই আসবে।’
পুরস্কার ফেরত নেওয়ার দাবি
এ সময় সেখানে উপস্থিত দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বলেন, কোনো গানে যদি নকলের অভিযোগ থাকে সেখানে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না। গানই হোক, কণ্ঠশিল্পী হোক, সুরই হোক। তাই জুরি বোর্ডের উচিত এটা ফেরত নিয়ে যাওয়া। কেন না জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বাছাইয়ের যাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়, কখনোই যথাযথ মানুষকে নিয়োগ দেওয়া হয় না। তাই এ ধরনের ভুল গুলো হয়ে থাকে।