আগস্ট ১৪, ২০২১, ০৮:৪২ পিএম
বিশিষ্ট অভিনেতা ও নাট্যকার আজাদ আবুল কালাম চিত্রনায়িকা পরীমণির মুক্তির দাবি করে বলেছেন, মডেল,অভিনেত্রী ও মদ ছাড়া বাংলাদেশে আর কোনও সমস্যা নেই।
শনিবার (১৪ আগস্ট) বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘বিক্ষুব্ধ নাগরিকজন’-এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় তিনি একথা বলেন। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন নানান পেশার মানুষ।
সমাবেশে আজাদ আবুল কালাম বলেন, পরমিনি কি অন্যায় করেছে? সে কি ব্যাংক লুট করেছে? নাকি মানুষ হত্যা করেছে? শিল্পী হিসাবে তার যে নূন্যতম অধিকার, সেই অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ যখন তার বাড়িতে অভিযানে যায়, মনে হয় যেন জঙ্গি ধরতে যাচ্ছে। মনে হয় রাষ্ট্রের আর কোনও কাজ নেই। রাষ্ট্রের একটাই কাজ, একটাই সমস্যা হচ্ছে মডেল,অভিনেত্রী ও অ্যালকোহল। এটা ছাড়া বাংলাদেশে আর কোনও সমস্যা নাই।
কালাম বলেন, এটা একটা বিরাট ষড়যন্ত্র। আমি মনে করি এই ষড়যত্রের পেছনে প্রভাবশালী মানুষেরা জড়িত, এবং প্রভাবশালী এসব মানুষের ষড়যন্ত্রের মাঝে সরকারও জড়িত। সরকার এই ষড়যন্ত্রকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। যার জন্য পরীমনি ও চয়নিকাকে হেনস্থা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণে মনে হল যেন বিরাট বড় কোনও ডাকাতকে ধরতে পেরেছে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি রাষ্ট্রের এই দুরভিসন্ধি শিল্পী সমাজকে এবং যারা এর সাথে জড়িত তাদেরকে কলঙ্কিত করার একটি ষড়যন্ত্র।
তিনি বলেন, আমরা সকলেই জানি যে এই দেশে হাজার হাজার বাড়িতে মদের পাহাড় রয়েছে। বাড়িতে মদ রাখা যদি এত বড় অপরাধ হয় তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই জায়গাগুলিতে কেন অভিযান চালায় না? আমরা সবসময় দেখেছি কিভাবে আমাদের দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এবং এমনকি অন্যান্য দেশের প্রভাবশালী শ্রেণী যখনই চায় তখনই মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। আমাদের মনে আছে বিজিএমইএ ভবনটি নামাতে আমাদের কত সময় লেগেছিল। প্রভাবশালী শ্রেণী সবসময় তাদের যা ইচ্ছা তা নিয়ে চলে যায়।
তিনি বলেন, মানুষ এখন বলে সব শিল্পী এখন আওয়ামী লীগের কর্মী। তবুও, আমরা কখনও দেখি না যে আওয়ামী লীগ পাশে দাড়াল কখনও। অসুস্থ এবং দরিদ্র শিল্পীদের রাস্তায় মারা যাচ্ছে। এবং আমরা সবসময়ই দেখেছি আওয়ামী লীগ আমলে গণমাধ্যমকর্মীরা সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ। কয়েকজন ব্যক্তি যারা নেতাদের সাথে ছবি তোলার জন্য মিশেছেন, তাদের ঘটনা ভিন্ন। বেশিরভাগ টিভি, চলচ্চিত্র ও থিয়েটার শিল্পীরা কখনোই আওয়ামী লীগের কাছ থেকে কোনো সুবিধা পাননি,উপরন্তু তাদের হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়েছিল।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আউনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারপরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রয়েছে। আপনি যা বলতে পারেন এবং না বলতে পারেন তা রূপকের মাধ্যমে বলতে হবে অথবা তারা আপনাকে আইনের আওতায় নিয়ে যাবে। আমরা কি পাকিস্তানে থাকি? অবশ্যই না ।
আজাদ তার বক্তব্যের শেষে পরীমনির ঘটনারসুষ্ঠু বিচার এবং দ্রুত মুক্তির দাবি জানান।
দুই দফা রিমান্ডের পরও ঢাকার একটি আদালত অভিনেতা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনির জামিন নামঞ্জুর করেছে কারাগারে পাঠিয়েছেন। চাঞ্চল্যকর মাদক মামলায় ১৩ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ৪ আগস্ট র্যাবের পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে পরী ও তার সহযোগীদের আটক করা হয়।