সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১, ০৫:২৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের ন্যায্যমূল্য চেয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন-বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেশটির তৈরি পোশাক ক্রেতাদের গোলটেবিল আলোচনায় বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান এ দাবি তোলেন।
গত ১০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত ‘রানা প্লাজার সাত বছর পর: কে কী করেছে’ শীর্ষক আলোচনায় বাংলাদেশি পোশাকের শুল্ক কমানোর বিষয়টি বিবেচনার জন্য মার্কিন সরকারের প্রতিও তিনি অনুরোধ জানান।
রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিজিএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলোচনায় বিজিএমইএ সভাপতি একটি নিরাপদ বৈশ্বিক বাজার (যেখানে কর্মক্ষেত্র ও চাকরি নিরাপদ ও টেকসই হবে) প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড ও রিটেইলারদের দামের ক্ষেত্রে আরও যুক্তিসংগত হওয়ার আহ্বান জানান।
ফারুক হাসান বলেন, ‘আমাদের কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ক্রমবর্ধমান হারে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে উৎপাদন ব্যয় ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। কিন্তু আমাদের পোশাকের মূল্য প্রতিবছর কমছে।’
তিনি বলেন, ‘যদিও এটি সত্য যে, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে মূল্য নির্ধারণ করা যায় না, তারপরও সামাজিকভাবে নৈতিকতা মেনে পণ্য উৎপাদনের জন্য কেউ কম দামের যৌক্তিকতা দিতে পারেন না।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিনিধি ও ক্রেতাদের বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাকশিল্প মালিকরা ও সরকার নিজেদের পোশাক শিল্পকে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিগত বছরগুলোতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিন পোশাক কারখানার আবাসস্থল এখন বাংলাদেশে। পাশাপাশি শ্রমিকদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ এবং ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
ফারুক হাসান যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারী ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রবাসীদের বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পে, বিশেষ করে নন-কটন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
গোলটেবিল আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দক্ষিণ এশিয়ার সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ক্রিস্টোফার উইলসনসহ ফেডারেল সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, টেক্সটাইলবিষয়ক সহকারি বাণিজ্য প্রতিনিধি উইলিয়াম জ্যাকসন, পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক পরিচালক জেনিফার লারসন, পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লেবারের পরিচালক মরিন হ্যাগার্ড, বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক ফারুক সোবহান, বিজিএমইএর সহসভাপতি মিরান আলী, ম্যাকলার্টি অ্যাসোসিয়েটসের প্রতিনিধি টেরেসিতা শ্যাফার, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি, আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন, ওয়ালমার্ট এবং টার্গেটের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ক্রিস্টোফার উইলসন বলেন, ‘আমদানি শুল্ক হ্রাস বা বৃদ্ধির ইস্যুটি মার্কিন কংগ্রেসের বিশেষ ক্ষমতা। শুল্ক হ্রাসের জন্য দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।’
যুক্তরাষ্ট্রে রাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত ও শ্রমিকদের কল্যাণে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ ও উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।