দীর্ঘ সাড়ে ৬ বছরেরওে বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর ইউরোপের বাজারে ফের প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশি পান। বুধবার (২৬ মে) রাজধানীর শ্যামপুরে সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউজে একটন পান রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। এর মাধ্যমে পানের হারানো বাজার ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন রপ্তানিকারকেরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আসাদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন ও ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু হোসেন বাবলা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ইউরোপের যে পরিমান পান রপ্তানি করা হয় তার ৯০ ভাগই চলে যায় যুক্তরাজ্যে। যুক্তরাজ্য ছাড়াও ফ্রান্স, ইতালি ও জার্মানিসহ ইউরোপের অন্য কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি পান রপ্তানি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যেও পান রপ্তানি করা হয়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা যায়, ইইউ’র নিষেধাজ্ঞার আরোপের আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ডলার বা ৩৩৪ কোটি টাকার পান রপ্তানি হয়। সর্বশেষ গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ৩০ হাজার ডলারের পান রপ্তানি হয়েছে।
ক্ষতিকর স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পাওয়ায় ২০১৪ সালের ২৯ জুলাই বাংলাদেশি পান আমদানীর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) র্যাপিড অ্যালার্ট সিস্টেম ফর ফুড অ্যান্ড ফিড (আরএএসএফএফ)। বাংলাদেশি পান আমদানির ওপর প্রথমে এক বছর সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিলেও পরবর্তীতে সময় বাড়ানো হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সন্তষ্ট করতে পারায় তারা বাংলাদেশি পান আমদানীর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।
বাংলাদেশি পান রপ্তানিকারকরা গণমাধ্যমে জানায়, ইইউর অন্যান্য শর্ত, যেমন উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চাষ, উৎপাদকদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া ইত্যাদিও অনুসরণ করা হচ্ছে। এছাড়া, ইইউ’র কথা মতো গোবার সারের পরিবর্তে খইল ব্যবহার করা হচেছ বলেও বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা জানান।