অন্তর্বাস ও স্বল্পবসনার পোশাকে বিনিয়োগ করছে বাংলাদেশ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ২৮, ২০২২, ১০:৫৭ পিএম

অন্তর্বাস ও স্বল্পবসনার পোশাকে বিনিয়োগ করছে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক বাজারে বিকিনি ও স্বল্পবসনার পোশাক ফ্যাশন হিসেবেই বিবেচিত হয়। দেশে অন্যান্য পোশাক উৎপাদন হলেও অন্তর্বাস ও স্বল্পবসনার পোশাকে এখন দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইন ও স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে অন্তর্বাস প্রস্তুতের কাঁচামাল ও জনবলের ঘাটতি রয়েছে দেশে। তবে দ্রুতই এই বাজার ধরতে চাচ্ছে বাংলাদেশ। যার ফলে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি স্থানে বিনিয়োগের পাশাপাশি শ্রমিক দক্ষতার চেষ্টা করছে উদ্যোক্তারা। 

অত্যাধুনিক জ্ঞানের অভাব অন্তর্বাস উৎপাদনে

বৈশ্বিক বাজারে অন্তর্বাস খাতে যেখানে মোট ৪ হাজার ২ কোটি  ডলার আয় হয়েছে সেখানে বাংলাদেশের শেয়ার ৫১ কোটি মিলিয়ন ডলার। কেনেথ রিসার্চ অনুসারে, ২০২৪ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী বাজার ৬ হাজার ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

আরএমজি উদ্যোক্তারা বলছেন, অন্তর্বাসের আইটেম, বিশেষ করে ব্রা তৈরির প্রক্রিয়া খুবই জটিল। এটি তৈরির জন্য ২৫ ধরনের অ্যাকসেসরি এবং অত্যাধুনিক জ্ঞানের প্রয়োজন। ফলে এই পণ্য উৎপাদনের জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করেছে তারা।

প্রতি বছর বাড়ছে বিনিয়োগ

অন্তর্বাস তৈরির কারখানা স্থাপনে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার বা ২৬৬ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা ধরে) বিনিয়োগ করবে হংকং-ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের মালিকানাধীন কোম্পানি নোভা ইনটিমা লিমিটেড।

কোম্পানিটি বছরে ছয় কোটি ইউনিট নারীদের বিভিন্ন ধরনের অন্তর্বাস ও অন্তর্বাস তৈরির সামগ্রী বানাবে। এখানে কর্মসংস্থান হবে ৫ হাজার ৬২৫ জন বাংলাদেশির।

অন্তর্বাস উৎপাদনে দক্ষ কম বাংলাদেশ

২০০৮ সালে বাংলাদেশ থেকে অন্তর্বাস রপ্তানির জন্য যুক্তরাজ্যের একটি শীর্ষ অন্তর্বাস কোম্পানি কোয়ান্টাম ক্লোদিং গ্রুপের সাথে যৌথ উদ্যোগে অন্তর্বাস তৈরি শুরু করে দেশের এসকিউ গ্রুপ। এর আগে কোম্পানিটি সোয়েটার রপ্তানি করত। ২০১০ সালে গ্রুপটি কোয়ান্টাম ক্লোদিং এর শেয়ার কিনে নেয়। বর্তমানে তাদের ৫টি পোডাকশন ইউনিট রয়েছে।

এসকিউ গ্রুপের চিফ পিপল অফিসার ওয়ারিসুল আবিদ বলেন, এই খাতে চীনের পর বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যত রয়েছে। এই ধরনের পোশাক এবং উচ্চ-মূল্যের পণ্যগুলো তৈরির জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী নকশা এবং ডেভেলপমেন্ট টিম। এছাড়াও শ্রমিকদের আরও দক্ষ হতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, কাঁচামালের উৎস এই বিভাগের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, তারা লেস তৈরির জন্য একটি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন। অন্তর্বাস তৈরির জন্য একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ লেস।

পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র পরিচালক ও মুখপাত্র মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অন্তর্বাস মূলত স্বাচ্ছন্দ্যই নয় বরং ফ্যাশনের জন্য পশ্চিমারা পরে। তবে সেই পার্যায়ে দেশের বাজার বিকশিত হয়নি। তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দেশের বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে। আমরা শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিরও চেষ্টা করছি। অন্যান্য পোশাকের চেয়ে এই খাতে দামও ভাল পাওয়া যায়। আশা করছি আগামীতের বাংলাদেশ অন্তর্বাসের হাব হবে।

Link copied!