দেশের ৩০টি ট্যানারির কাছে অন্তত ১১০ কোটি টাকা পাওনা থাকার অভিযোগ তুলেছেন চামড়ার আড়তদাররা। ঈদুল আজহার আগেই ট্যানারি মালিকদের কাছে এসব টাকা ফেরত চান তারা। আড়তদাররা বলছেন, বকেয়ার অন্তত ৫০ শতাংশ অর্থ ফেরত না পেলে এবার কোরবানির চামড়া কেনা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে আড়তদারদের দাবির সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে ট্যানারি মালিকরা বলছেন, পাওনা থাকলে তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। সেটা না করে প্রতিবার ঈদের আগে গণমাধ্যমের সামনে গিয়ে কোটি কোটি টাকা পাওনার দাবি তোলা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আল মদিনা ট্যানারি, প্রগতি ট্যানারি, মিল্লাত ট্যানারি, ক্রিসেন্ট ট্যানারি, মুক্তা ট্যানারি, আইউব ব্রাদার্স, অঙ্গল লেদার, এসকে লেদার, সততা ট্যানারি ও এশিয়া ট্যানারির কাছেই সবচেয়ে বেশি অর্থ পাওনা রয়েছে।
তবে এবার কোরবানির ঈদে পশুর কাঁচা চামড়া কেনা-বেচায় ৪৪৩ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করতে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ১১টি ব্যাংককে লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কাঁচা চামড়া আড়তদারদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’-এর (বিএইচএসএমএ) সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বলেন, ১৫২টি তালিকাভুক্ত ট্যানারির মধ্যে ৩০টি ট্যানারিতে ১১০ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। আমাদের হাতে এখন টাকা নেই। ঈদের আগে টাকা না পেলে কাঁচা চামড়া কেনা কঠিন হবে; লবণ কেনাও সম্ভব হবে না। লবণ ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে ৮০০ টাকার লবণ ১১ টাকায় বিক্রি করছে।
টিপু সুলতান বলেন, ২০১৯ সালের বকেয়া নিয়ে বিরোধ মেটাতে এফবিসিসিআই উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন কিছু বকেয়া টাকা পেয়েছিলেন আড়তদাররা। এর পর আর খবর নেই।’ তিনি বলেন, পুরান ঢাকার পোস্তা এলাকায় ১৯৪ জন আড়তদার তালিকভুক্ত আছেন। আড়দাররা মূলধন সংকটে পড়েছেন। কেউ কেউ বকেয়া না পেয়ে এ ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের দায় সবার ওপর যাবে কেন? প্রতিবছর কোরবানির আগে আড়তদাররা ঢালাওভাবে বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে টাকা পাবেন। যাদের কাছে টাকা পাবেন, তাদের বিরুদ্ধে কখনো তারা কোথাও অভিযোগ করেছেন? এ টাকাগুলো কাদের কাছে পাবেন? তারা কি আসলে ট্যানরি ব্যবসায়ী? অতিলোভে যদি কেউ অসাধু ব্যবসায়ীকে চামড়া দেয়, সে দায় কে নেবে?’
মাহিন আরও বলেন, ‘ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেন না। দেশে প্রচলিত আইন আছে, সে আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন তারা। কিন্তু এসব না করে ঈদের আগে শুধু অভিযোগ শুরু হয়।’
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গতবছর পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশে ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদিপশু কোরবানি হয়। এর মধ্যে ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৯টি গরু-মহিষ, ৫০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৮টি ছাগল-ভেড়া।