খাদ্য উৎপাদন বাড়লেও দাম নাগালের বাইরে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

অক্টোবর ১৫, ২০২১, ১১:৫৯ পিএম

খাদ্য উৎপাদন বাড়লেও দাম নাগালের বাইরে

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ। ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকেই সরকার এই দাবি করে আসছে। তবে উৎপান বৃ্দ্ধি পেলেও পণ্যের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে। করোনা মহামারীর পর চাহিদা বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত বাজার ও সরকারের উদাসীনতার জন্য খাদ্য পণ্যের দাম নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে বলে জানায় বিশেষজ্ঞরা। ১৬ অক্টোবর ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২১। এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ-ভালো উৎপাদনে ভালো পুষ্টি, আর ভালো পরিবেশেই উন্নত জীবন’।

উৎপাদনের বিপরীতে দাম বেড়েছে সব পণ্যের

চলতি অর্থবছরে দেশে চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৯৫ লাখ টন। গত অর্থবছরে দেশে চালের উৎপাদন হয়েছিল ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টন। প্রায় ৫০ হাজার টন বেশি ধান উৎপাদন হলেও এক বছরের ব্যবধানে কেজি প্রতি চালের দাম ১২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে মিনিকেটসহ অন্যান্য চালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া, গত বছরে ৭৫ হাজার পোল্ট্রি খামারের বিপরীতে বর্তমানে ১ লাখের বেশি পোল্ট্রি মুরগির খামার রয়েছে। কিন্তু পোল্ট্রির উৎপাদ বৃদ্ধি পেলেও কেজিপ্রতি ৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে চলতি বছরের ২ হাজার ২০০ কোটি পিস ডিম উৎপাদন হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় ৩০০ কোটি পিস বেশি। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে প্রতি পিসে ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে।

উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির অভিযোগ

বিগত কয়েক বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ করছেন খামারীরা। পোল্ট্রি ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও খরচ ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানায় তারা। ডিম উৎপাদনকারীর সমিতির সভাপতি তাহের হোসেন বলেন, দু বছর আগে যেখানে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি ছিল পোল্ট্রি ফিডের সেখানে এখন তা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য ওষুধ ও সরঞ্জামের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে পণ্যের দাম বৃদ্ধির মূল কারন হচ্ছে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি।

বাজার তদারকিই মূল কারন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক এবং সাবেক উপাচার্য এম এ সাত্তার মন্ডল বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বাজার তদারকি সেল আছে। কিন্তু সেখানে একটা সেল কিভাবে সার্বিক বাজার তদারকি করবে তা সুনির্দিষ্ট নয়।  ভারতে সিএসপি নামে একটি সরকারি কমিশন রয়েছে। বাংলাদেশেও ১৯৯৯ সালের কৃষিনীতিতে এরকম একটা উদ্যোগের কথা চিন্তা করা হয়েছিল। যে কোনো কারণে এটা করা যায়নি। এটাকে এখন সুচিন্তিতভাবে সামনে নিয়ে আসা দরকার।

তিনি আরও বলেন, মহামারী বা বাজার অব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যিক ধস যেন কৃষকদের ক্ষতি না করে। সে জন্য সবসময়েই তথ্য-উপাত্ত নির্ভর বিশ্লেষণ দরকার। এক্ষেত্রে সরকারের একটা সংস্থা এই কাজ করার জন্য দরকার।

উৎপাদন বেড়েছে সকল পণ্যের

বাংলাদেশ কৃষি অধিদপ্তরের মতে গমের উৎপাদন নিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশে চলতি কৃষিবছরে গমের উৎপাদন ১০ লাখ মেট্রিক টন। ঘাটতি পূরণে আরও ৬৬ লাখ টন আমদানি করা লাগতে পারে। আর ভুট্টার উৎপাদন এ বছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সাড়ে ৪ শতাংশ বেড়ে ৪৬ লাখ টন হয়েছে, যা গত কৃষিবছরের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ বেশি।

দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ মে.টন। কিন্তু এর বিপরীতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে উৎপান হয়েছে ১৮ লাখ মে.টন। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ১৯ লাখ মে.টন। কিন্তু উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বি হয়েছিল। গত বছরে পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাত্র এক অর্থবছরের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

Link copied!