ব্যাংকের পর এবার ব্রিকস জোটে যাচ্ছে বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদক

জুন ২১, ২০২৩, ০৭:৪৮ পিএম

ব্যাংকের পর এবার ব্রিকস জোটে যাচ্ছে বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ব্রিকস জোটে যোগদানের প্রক্রিয়া এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত দক্ষিণ আফ্রিকা। ইতোমধ্যে, ব্রিকস এ যোগদানের জন্য আবেদনও সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও  ঢাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার দূতাবাস স্হাপনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (২১ জুন) গণভবনে আয়োজিত সাম্প্রতিক সুইজারল্যান্ড ও কাতার সফরে অর্জন সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

বিশ্বের বৃহত্তম উন্নয়নশীল চার দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীনকে নিয়ে ২০০৯ সালের জুন মাসে  গঠিত হয় ব্রিক। পরে ২০১০ সালে যোগ দেয় সাউথ আফ্রিকা। তখন নাম হয় ব্রিকস। ২০১৩  সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সামিট এ ব্রিকস জোট একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে একমত হয় যা ২০১৪ সালে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা এনডিবি নামে পুর্ণ রুপ পায়। ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বর্ষে ব্রিকস ব্যাংক এনডিবি বাংলদেশকে এর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।

মূলত, ২০২০ সালে বাংলাদেশ ব্রিকস এর ব্যাংক নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এ সদস্যপদ অর্জন করলেও জোটে যোগদানের বিষয়টি সামনে আসেনি। এরপর আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হওয়ার কারণে বাংলাদেশ বড় উন্নয়নশীল এ দেশগুলোর জোটে স্হায়ী ভাবে যোগ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, এ মাসে তার সুইজারল্যান্ড সফরে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সঙ্গে এক বৈঠকে ব্রিকসে যোগদানের বিষয়ে আলোচনা হয়। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য পদ লাভ করতে চলেছে।
ব্রিকস জোটে যোগদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনও করেছে। তবে আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিতব্য শীর্ষ সম্মেলনেই বাংলাদেশের সদস্য পদ চূড়ান্ত হবে। বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য ৫টি দেশ হলেও তারা আগামীতে আরও ৮টি দেশকে সদস্য করবে। তন্মধ্যে, বাংলাদেশ, সৌদি আরব, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া ও উরুগুয়ে এই জোটের সদস্য হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্রিকসে যোগ দিতে চলেছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে আবেদন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের সদস্য পদ চূড়ান্ত হতে পারে। এসময় ঢাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার দূতাবাস স্হাপনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের উপর এক ধরনের অস্বস্তিকর আচরন করছে বলে দু পক্ষের বিবৃতিতে ফুটে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা বিতর্ক।

এমন পরিস্হিতিতে ব্রিকস জোট বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন যুগের সুচনা করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। ব্রিকসে যোগ দিলে বাংলাদেশ যেসব সুবিধা পাবে তার একটি হচ্ছে কম সুদে ঋণ পাওয়া। এছাড়াও  শুল্ক হ্রাস বা বিনাশুল্কে বাণিজ্য সুবিধা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবদিকদের বলেছেন, ব্রিকসে যোগ দিলে অর্থায়নের আরেকটি ক্ষেত্র হবে। আমাদের তো টাকা পয়সা দরকার। সেদিক থেকে এটা ভালো হবে।

Link copied!