রোজার আগেই অসংযমী খেজুরের দাম

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মার্চ ১৭, ২০২৩, ০৭:৪২ পিএম

রোজার আগেই অসংযমী খেজুরের দাম

রোজার মাসে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে না এমন কথাই বলেছিল ব্যবসায়ীরা। কিন্তু রোজা শুরু এক সপ্তাহ আগ থেকেই পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় রোজায় ইফতারির জন্য সমাদৃত খেজুরের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জাতের সংকটও দেখা গেছে বাজারজুড়ে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি,কারওয়ানবাজার ও বাদামতলী ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়।
মমতাজ-মরিয়ম জাতের খেজুরের কার্টন এক হাজার ৫০০ থেকে বেড়ে দুই হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফরিদা জাতের খেজুরের কার্টন ৮০০ থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার টাকায়। বর্তমানে ডালবারালি খেজুর ৪৫০ টাকা, বরই খেজুর ৩০০-৪০০ টাকা, দাবাস ২০০ টাকা, জিহাদি ১৮০ টাকা, কামরাঙ্গা ৪০০ টাকা, তিউনিসিয়া ৩৫০ টাকা, আজোয়া ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সর্বনিম্ন দামে যে খেজুরটি আগে কেজিপ্রতি বিক্রি হতো ৯০ টাকায় গত কয়েকদিন ধরে সেই খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়। আব্দুল্লাহ আল রোমান নামে এক ক্রেতা বলেন, রমজান শুরু হতে এখনো প্রায় দেড় সপ্তাহ বাকি। অথচ এখনই খেজুরের দাম কয়েকগুণ হয়েছে। ভেবেছিলাম এখন কিনলে হয়তো কম দামে খেজুর কিনতে পারবো। এসে দেখি দাম বেড়ে গেছে। বাধ্য হয়েই বেশি দামে খেজুর কিনে নিয়ে যেতে হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখানে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা যেভাবে কিনি সেভাবেই বিক্রি করি। আমাদের লাভের পরিমাণ খুবই সামান্য। এখানে বরাবরই সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা সুবিধা ভোগ করেন। তাছাড়া এবার ডলার সংকটের কারণেও খেজুরের দাম বেড়েছে।
হারুন নামে এক খেজুর বিক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় রমজান মাসে খেজুরের চাহিদা বেশি থাকায় নানা অজুহাত দেখিয়ে খেজুরের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়। সরকার কঠিন মনিটরিং করে না বিধায় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা নিজের মনমতো দাম বাড়ান। এবার খেজুরের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রপ্তানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম শেখ গতকাল বলেন, এক বছর আগের তুলনায় এখন ফল আমদানি কমেছে ৩০ শতাংশের বেশি। আবার আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। আবার সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতিও বাড়তি। তাই খরচে লাগাম টেনেছে সাধারণ মানুষ। এ কারণে বিক্রিও কমে গেছে। গিয়াস উদ্দিন নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের এখনই বাড়তি দাম দিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খেজুর কিনতে হচ্ছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। দাম তো আমরা বৃদ্ধি করি না। বর্তমানে বাড়তি দামে খেজুর কেনার ফলে আমাদের লাভের পরিমাণ কমে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা করে আসছি, তাই কম লাভ হলেও ছাড়তে পারছি না।

Link copied!