লোডশেডিংয়ে ধীর শিল্পের চাকা, বাড়ছে ক্ষতি

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ১৯, ২০২২, ০৫:৩২ পিএম

লোডশেডিংয়ে ধীর শিল্পের চাকা, বাড়ছে ক্ষতি

দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী শিল্প প্রতিষ্ঠান। দুই ঘন্টা লোডশেডিং পিক টাইমে থাকলে দৈনিক পৌনে ৪ শ কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে জানায় ব্যবসায়ীরা। শিল্পাঞ্চল এলাকা ও জরুরী রপ্তানিমুখী এলাকায় তাই লোডশেডিং না দেয়ার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠিও পাছিয়েছে তারা।

হিমাগারের পণ্য নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ

দেশে চলমান তাপপ্রবাহের পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের সরাসরি প্রভাব পরেছে হিমাগারগুলোতে। ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি হিমাগারে মজুত রাখা আলু আলাদা ভাবে সরিয়ে রাখা হয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারনে আংশিক পণ্য নষ্ট হয়েছে বলে জানায় তারা। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশন বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠিও দেয়। সেখানে তারা বলে, প্রায় সর্বত্র হিমাগার সমূহে লোডসেডিং ও লো ভোল্টেজ অব্যাহত আছে। লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজের ফলে মেশিনারিজ সুষ্ঠুভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আলু পচনশীল পণ্য বা খাদ্যের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হয়। সেই জন্য হিমাগার সমূহে বিদ্যুৎ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রা অধিকার প্রদান করা প্রয়োজন।

সংগঠনটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন পুষ্টি দ্য রিপোর্ট ডট লাইভকে বলেন, আমাদের কোল্ড স্টোরেজে আলু ফলমূল যখন লোডিং পিরিয়ডে থাকে তখন বিদ্যুৎ না থাকলে ক্ষতি হয়। তবে এখন একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে বিধায় ২ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকলে ক্ষতি হবে না। কিন্তু ৫-৬ ঘন্টা করে বিদ্যুৎ না থাকলেই আমাদের ক্ষতি হবে। কেননা অনেক এলাকায় জেনারেটর নাই। যার ফলে আলু সংরক্ষণ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। যেটি কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি স্বরূপ।

পোশাক খাতে এখন দ্বিমুখী সমস্যা

দেশের পোশাক খাত এখন ক্রান্তিকালের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। মোট রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশই ইউরোপের দেশগুলোতে যায়। কিন্তু ডলারের বিপরীতে ইউরোর মান কমতে থাকায় পোশাক খাতে প্রায় ৩০ শতাংশ কম মূল্য পাবেন বলে আশঙ্কা করছে ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এরই মধ্যে প্রতিদিন লোডশেডিংয়ে বড় ক্ষতি পড়বে রপ্তানিমূখী এই খাতে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ডলারের অবস্থানের কারনে আমরা ইউরোপের বাজারে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। এর মধ্যে লোডশেডিং আমাদের উৎপাদন ও কর্মঘন্টা কমিয়ে দিবে। তবে আমরা বিদ্যুৎ বিভাগসহ বিনিয়োগ সহায়ক সকল প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছি। তারা যেন শিল্প এলাকায় কারখানা চলমান অবস্থায় লোডশেডিং না দেয়।

প্রতিদিন ক্ষতি ৩৮০ কোটি টাকা

ঢাকা চেম্বারের এক গবেষণায় দেখা যায় দেশে ১ ঘন্টা শিল্পকারখানা বন্ধ থাকলে প্রায় ১৯০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। সে হিসেবে ২ ঘন্টা লোডশেডিং থাকলে প্রায় ৩৮০ কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হবে শিল্পকারখানাগুলো। তবে এই ক্ষতি শুধু টাকার হিসেবে করলেই হবে না বলে জানায় সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ে অবশ্যই শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে যথাসময়ে পণ্য সরবারহের জন্য এখন প্রতিযোগীতা চলে। তাই লোডশেডিংয়ের ফলে বায়ারদের কাছে সম্মানহানির সম্ভাবনাও আছে। সব মিলিয়ে বহুমুখী সমস্যায় পড়বে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।

শিল্পখাতে বিদ্যুৎ সরবারহের আহ্বান

দেশব্যাপী লোডশেডিংয়ের প্রভাবে শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কম গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে শিল্প খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

সংগঠনটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, যেসব খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন হলেও খুব বেশি ক্ষতি হবে না সেসব খাতে লোডশেডিং দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু শিল্প খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন হলে উৎপাদন ব্যাহত হবে। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে কম গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর চেয়ে শিল্প খাতকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

Link copied!