সংগৃহীত ছবি
তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়ে আপনার মন চাইতেই পারে সুমেরু অঞ্চলের বরফশীতল দেশে চলে যেতে। মনের এই চাওয়া পূরণের আগে, জেনে নিন সেখানে বাসরত এস্কিমো জনগোষ্ঠীর প্রতিদিনকার সংগ্রামের কথা।

জমাটবদ্ধ জলরাশি, কনকনে ঠাণ্ডা পরিবেশ ও বৈরী আবহাওয়ার এক রহস্যে ঘেরা জীবন এস্কিমোদের। যে জীবনযাত্রা কল্পকাহিনীর গল্পকেও হার মানিয়ে যায়।

বরফের স্নিগ্ধতার আড়ালে প্রতি পদক্ষেপে যে মৃত্যুর গান বাজে সেই জনপদে শতবছর ধরে যুদ্ধ করে টিকে আছেন এস্কিমোরা। তাদের জীবনযাত্রার কিছু বৈচিত্র্য জানাচ্ছি আজ।

ক্যারিবো ফারস

বরফের হিমশীতল রাজ্যে বেঁচে থাকার জন্য এস্কিমোরা মেরু ভাল্লুক, বল্গা হরিণ ও শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর মোটা চামড়া দিয়ে পোশাক তৈরি করেন। এগুলোর নাম ক্যারিবো ফারস। এই পোশাকগুলো চামড়া দিয়ে তৈরি হওয়ায় টিকে থাকে বছরের পর বছর। এছাড়াও পা ও শরীর গরম রাখতে চামড়া দিয়ে পাঁচ ভাঁজ পর্যন্ত জুতা তৈরি করেন তারা।

ইগলু ঘর

এস্কিমোদের জীবন নিয়ে বলতে গেলে শুরুতেই মনে আসে ইগলু ঘরের কথা। মেরু অঞ্চলে গাছপালা কম তাই বিশালাকৃতির বরফের খণ্ড দিয়ে বাড়ি বানানো হয়। বাড়িগুলো উচ্চতায় সর্বোচ্চ ৫-৬ ফুট হয়। হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন এস্কিমোরা।

গ্রীষ্মকাল এলে এসব ঘর গলে পানি হয়ে যায়। তখন এস্কিমোরা বাস করেন খোলা আকাশের নিচে তাঁবু খাটিয়ে। এসব তাঁবুর ছাদ তৈরি করা হয় চামড়া দিয়ে আর দেয়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয় পশুর হাড় ও তিমি মাছের বিশালাকার কাঁটা।

কামুতিক গাড়ি

এস্কিমোরা কুকুরটানা স্লেজ গাড়ি ব্যবহার করেন। একটা গাড়িতে ১০টি প্রশিক্ষিত কুকুর জুড়ে দেয়া হয়। এস্কিমো ভাষায় এ গাড়ির নাম কামুতিক। জমাটবাঁধা পিচ্ছিল বরফের ওপর দিয়ে খুবই দ্রুতবেগে চলতে পারে এ গাড়ি। এছাড়াও কায়াক নামের ছোট ছোট নৌকা ব্যবহার করে তারা।

শিকার করে ক্ষুধা নিবারণ

এই অঞ্চলে চাষাবাদ প্রায় অসম্ভব বলে পশু শিকার করেই এস্কিমোদের ক্ষুধা নিবারণ করতে হয়। বল্গা হরিণ, বন্য খরগোশ, মেরু ভাল্লুক, উড়ন্ত হাঁস ও পেঙ্গুইন শিকার করে তারা। এছাড়াও বরফের নিচ থেকে সিল, তিমিসহ বিভিন্ন রকমের মাছ ধরে খায়। গ্রীষ্মকালে শিকার করে শীতকালের জন্য খাবার তুলে রাখে এস্কিমোরা।

ছয় মাস রাত আর ছয় মাস দিন
প্রকৃতির খেয়ালিপনায় এ অঞ্চলে ছয় মাস দিন আর বাকি ছয় মাস রাত। বছরে কেবল একবারই পুরোপুরি সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখা যায়। এ অঞ্চলে ১৮৭ দিন গ্রীষ্মকাল যে সময় সূর্যের দেখা মেলে। আর ১৭৮ দিন সূর্যের দেখা মেলে না। সে সময় এ অঞ্চলে শীতকাল। এক টানা রাত।

এমন বিরূপ পরিস্থিতিতেও এস্কিমোরা সেখানেই বসবাস করতে ভালোবাসে আর অন্য এলাকায় গেলে তাদের শারীরিক সমস্যাও দেখা দেয় বলে জানা যায়।