ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, অথচ কিছুতেই সফল হচ্ছেন না? শুধুমাত্র পানি পানের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েই বাড়তি মেদের কিছুটা ঝরিয়ে ফেলতে পারেন অনায়াসে। পুষ্টিবিদদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান করলে বিপাকীয় হার অনেকটাই বেড়ে যায়, এর ফলে জমে থাকা মেদ ও বাড়তি ক্যালোরি কমানো সম্ভব।
আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন’-এর একদল গবেষক ওজন কমাতে ইচ্ছুক, এমন কিছু মহিলাদের নিয়ম করে বাড়তি এক লিটার পানি পান করানোর পরামর্শ দেন। রোজের খাবারের নিয়মে বিন্দুমাত্র রদবদল না করে, স্রেফ বাড়তি পানি পান করেই তারা ৬ মাসের মধ্যে ২ কেজি ওজন কমাতে পেরেছেন। ডায়েটিশিয়ান রেশমী রায়চৌধুরীও একমত। তিনি জানালেন, পানি পান বাড়ানোর সঙ্গে যদি ঘরে হাল্কা ব্যায়াম করা যায় এবং কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে আরও বেশি ওজন কমবে।
1. সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, যে কোনও খাবার খাওয়ার ১৫ মিনিট আগে ৪০০-৫০০ মিলিলিটার জল খেতে হবে। তাতে বিপাকীয় হার ২৫-৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। বিপাকীয় হার বাড়লে এক দিকে মেদ জমা বন্ধ হবে, অন্য দিকে বাড়তি মেদও কিছুটা ঝরবে, বললেন রেশমী।
2. রোজকার ডাল, ভাত, মাছের মতো জলও আমাদের শরীরে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে আমাদের বিএমআর অর্থাৎ, বেসাল মেটাবলিক রেট বেড়ে যায়। ফলে দ্রুত ক্যালোরি খরচ হয়। ফলে মেদ জমতে পারে না। উপরন্তু বাড়তি মেদ কিছুটা ঝরে যায়।
3. যারা নিয়ম করে গরমকালে ২-২.৫ লিটার জলপান করেন, তাদের কোমরের মাপ কিছুটা কমে। ফলে বডি মাস ইন্ডেক্স অর্থাৎ, বিএমআইও কমে যায়। পানিতে কোনও ক্যালোরি থাকে না, কিন্তু পানি পান করলে শরীরের ক্যালোরি খরচ করে জল শোষিত হয়। তাই বাড়তি মেদ ঝরে।
4. একটি সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, যে কোনও খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে যদি ৫০০ মিলিলিটার পানি পান করা যায়, তা হলে ১২ সপ্তাহের মধ্যে ২ কেজি মেদ ঝরে যাবে।
5. সকালে উঠে খালি পেটে জলপান করলে, খাবারের চাহিদা ১৩ শতাংশ কমে যায়। তবে এই নিয়ম মাঝবয়সীদের জন্যে প্রযোজ্য। অল্প বয়সে শুধুমাত্র পানি পান করে ওজন কমানো মুশকিল। তাদের খাবারের চাহিদা খুব একটা কমে না।
6. যারা ঘন ঘন চা-কফি বা শরবত খান, তাদেরও ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যান্য পানীয়ের পরিবর্তে জলপান করলে ওজন ঠিক থাকবে।
সূত্র: আনন্দবাজার।