ছবি:সংগৃহীত
সুডোকু একধরণের লজিক্যাল পাজল। বাংলায় বলা যায় ধাঁধা। সংখ্যার সাহায্যে এ ধাঁধা সমাধান করতে হয়। সুডোকুতে মোট ৮১টি ঘর থাকে। ঘরগুলোর মধ্যে আবার ৩×৩ আকারের ৯টি বর্গ থাকে। প্রতিটি কলামে ও সারিতে ১-৯ পর্যন্ত সংখ্যা একবার বসাতে হবে। একই সংখ্যা একাধিক বার বসানো যাবে না। আবার প্রতিটি ৩×৩ আকারের বর্গেও একই শর্ত মানতে হবে।
ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব জেরিয়াট্রিক সাইকিয়াট্রির এক গবেষণায় দেখা গেছে, সুডোকু মেলানো ব্যক্তিদের তীক্ষ্ণ জ্ঞান থাকার পাশাপাশি তাঁদের মস্তিষ্কের বয়স প্রায় ১০ বছর কম হয়ে থাকে। ফলে বেশি দিন কার্যকর থাকে মস্তিষ্কের ক্ষমতা।

গবেষণায় প্রায় ১৯ হাজার ১০০ জন অংশগ্রহণকারীর মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং যুক্তি বিশ্লেষণক্ষমতা পর্যালোচনা করা হয়। দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ধাঁধা মেলান তাঁদের মস্তিষ্ক বয়সের তুলনায় ১০ বছরের কম হয়ে থাকে। তবে স্বল্পমেয়াদি স্মৃতির পরীক্ষায় ধাঁধা সমাধানকারীদের মস্তিষ্ক বয়সের তুলনায় আট বছরের কম হয় বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণার তথ্য মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ যত বেশি সুডোকুর মতো ক্রসওয়ার্ড গেম খেলেন, তাঁদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা তত ভালো হয়।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটার মেডিকেল স্কুলের ডিমেনশিয়া–বিষয়ক গবেষক জানান, যাঁরা সুডোকুর মতো ধাঁধা মেলাতে পারেন, তাঁদের কাজ করার গতি বেশি হয়। তাঁরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যদিও এই ধাঁধা সমাধান করলে পরবর্তী জীবনে ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি কমে যায় বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে শব্দ ও সংখ্যার ধাঁধা নিয়মিত সমাধান করলে আমাদের মস্তিষ্ক দীর্ঘ সময়ের জন্য আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার একজন বিজ্ঞানী বলেন, সম্ভবত যাঁরা এই ধরনের সমাধানযুক্ত কাজ করতে পছন্দ করেন, তাঁদের মস্তিষ্ক বেশি কার্যকর থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত কাজ করার ক্ষমতা, মানসিক সচেতনতা আর মনোযোগ দক্ষতা কমতে থাকে। সুডোকু মেলানোর মতো কাজ আমাদের মস্তিষ্ককে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুডোকুর মতো ধাঁধা ডিমেনশিয়া সংকটের ঝুঁকি কমাতে পারে।
সম্প্রতি দ্য হিন্দুস্তান টাইমসে সুডোকু খেলার কয়েকটি উপকারিতার কথা বলা হয়েছে:
মনসংযোগ বাড়ায়: এই খেলাটি আমাদের যে কোনও সমস্যায় পড়লে মাথা ঠাণ্ডা রেখে সেটা সলভ করতে সাহায্য করে।
মনের রাখার ক্ষমতা বাড়ায়: সুডোকু যে কেবল মনঃসংযোগ বাড়ায় এমনটা নয়, একই সঙ্গে এটি আমাদের মনে রাখার ক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

অ্যালজাইমার হওয়ার আশঙ্কা কমে: যেহেতু এই খেলা সোনার মস্তিষ্ককে অ্যাক্টিভ রাখে সেহেতু এটি অ্যালজাইমার হওয়ার আশঙ্কাকে কমায়।
সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে: এই খেলাটি আমাদের কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠাণ্ডা থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে থাকে।
মন ভালো রাখে: যেহেতু সুডোকু খেলার মাধ্যমে আমরা নিজেদের ব্যস্ত রাখি সেহেতু অবসাদ, কষ্টগুলো দূরে যায়। উল্টে এই ধাঁধার সমাধান করার পর পাওয়া যায় এক অনাবিল আনন্দ।
সুতরাং সকালে ঘুম থেকে উঠেই দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সুডোকু মিলিয়ে শুরু করতে পারেন দিন।