করোনাকালে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ও উন্নতিতে করণীয়

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ৬, ২০২১, ০১:৩৪ পিএম

করোনাকালে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ও উন্নতিতে করণীয়

গৃহবন্দী জীবন- বিষয়টি এখন আর জেলেবন্দি জীবনের মত হতাশার না হলেও শিশুর মানসিক বিকাশে করোনার নেতিবাচক প্রভাব বিস্তরভাবে দেখা যাচ্ছে। শিশুর আচরণগত এবং আবেগজনিত সমস্যাও দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। তবে এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন বাবা-মা এবং অভিভাবকেরা। শিশুর জন্য প্রতিদিনের যে বিদ্যালয়ের রুটিন তা অতি জরুরী কারণ এটি শিশুর পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রবণতাকে বৃদ্ধি করে।  

করোনায় শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য

১. দীর্ঘস্থায়ী অবসাদ: দেশব্যাপি করোনার বিস্তার ছড়াতে লকডাউন যখন প্রাধান্যের, তখন ঘরের গণ্ডির ভেতর একাকিত্বে ভুগছে শিশুরা। বন্ধ হয়ে গ্যছে বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা। স্বাভাবিক ভাবেই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ছে তারা যা তাদের ঠেলে দিচ্ছে  অবসাদ আর হতাশায়।

২. মানসিক দুশ্চিন্তা: অনিশ্চয়তা এবং যথাযথ রুটিনের অভাবে তার ভুগছে দুশ্চিন্তায়।

৩. অপজিশনাল ডেফিয়েন ডিসওর্ডারঃ এটি ওডিডি নামেও পরিচিত। এমতাবস্থায় শিশদের মধ্যে তর্ক করার প্রবণতা বেড়ে যায়, বড়দের অবজ্ঞা করার মানসিকতা কাজ করে নির্দিষ্ট কোন কারণ ছাড়াই।

৪. ক্ষুধামন্দা এবং স্থুলতা: মানসিক চাপের জন্য অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ এবং একদমই রুচি হারিয়ে ফেলা দুটোই শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ করে।

করোনাকালে শিশুর জন্য করণীয়

১. শিশুর মনে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে যাতে কোনোরূপ ভয়-ভীতি না থাকে তা খেয়াল রাখতে হবে। 

২. কোভিড-১৯ এবং বর্তমান চলমান সময় সম্পর্কে শিশুকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলতে হবে।

৩. স্বাভাবিক ভাবে মেনে নাওয়ার মানসিকতা শিশুর মধ্যে তৈরি করা তার কোপিং মেকানিজম কে সাহায্য করবে।

৪.  ছবি আকা, বই পড়া, মাটি দিয়ে পুতুল বানানো ইত্যাদি সৃজনশীল কাজে শিশুকে ব্যস্ত রাখতে উৎসাহিত করা

৫.  শিশুদের বাগান করাতে উৎসাহিত করাতে হবে।

৬. কোন কিছু  শিশুর উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

৭. শিশুরা যখন রেগে যাবে তখন বকাঝকা না করে ধৈর্য্য নিয়ে তাদের সময় দিতে হবে।  

৮. অর্থনৈতিক অব্যবস্থার কথায় শিশুদের কোনোভাবেই জড়ানো যাবে না।

সূত্র: বিবিসি

 

 

Link copied!