লিপস্টিক নারীদের এক জনপ্রিয় প্রসাধনী। শিশু বয়স থেকে লিপস্টিকের প্রতি অন্যরকম আকর্ষণ থাকে নারীদের। তবে ঠোঁটের ত্বক অনেক সেন্সিটিভ থাকে তবুও নারীদের লিপস্টিক ব্যবহারে প্রয়োজনীয় সতকর্তা নিতে দেখা যায় না।
লিপস্টিক ঠোঁটের সৌন্দর্য বাড়ালেও নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁটের ত্বকের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। অনেকে আবার লিপস্টিক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানেন না। এর ফলে ঠোঁট কালো হওয়া থেকে শুরু করে এলার্জির সমস্যাও হয়ে থাকে। এছাড়াও মানসম্মত পণ্য ব্যবহার না করলে ঠোঁটে হতে পারে স্থায়ী ক্ষতি।
চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন বেশি গাঢ় লিপস্টিক দীর্ঘসময়ের জন্য ব্যবহার না করার জন্য।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ লিপস্টিকেরই রং গাঢ় করার জন্য বিশেষ ধরনের কিছু ধাতব রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। তা ঠোঁটের জন্য ক্ষতিকারক। তবে হালকা রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করলে এক রকম। কিন্তু গাঢ় রঙের লিপস্টিক দীর্ঘসময় ব্যবহার করলে ঠোঁটে সেই রঙের কষ স্থায়ীভাবে থেকে যেতে পারে।

ঠোঁটের যত্নে যা করবেন-
> যতটা সম্ভব হালকা রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করুন।
> দিনে দু’বারের বেশি লিপস্টিক ব্যবহার করবেন না।
> ‘এসপিএফ’ যুক্ত লিপবাম ব্যবহার করুন।
> শুতে যাওয়ার আগে অবশ্যই লিপস্টিক তুলে নেবেন।
> মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না।

লিপস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা ভালো-
১. ঠোঁট ভালো রাখতে অবশ্যই গুণাগত মান যাচাই করে ভালো মানের লিপস্টিক ব্যবহার করতে হবে। কেনার আগে অবশ্যই নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের লিপস্টিকের গুণগত মান সম্পর্কে জানুন। কম দামি অনেক লিপস্টিকে ক্ষতিকর কেমিক্যাল থাকে, যা ঠোঁটের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
২. লিপস্টিক ব্যবহারের আগে ঠোঁট লিপলাইনার দিয়ে আঁকিয়ে নিন। এতে সুন্দর দেখাবে, আবার দীর্ঘক্ষণ ঠোঁটে লিপস্টিকও থাকবে।
৩. বেশি গাঢ় রঙের লিপস্টিক লাগানোর পর একটি মোটা টিস্যু পেপার ঠোঁটের মাঝে রেখে একটু চেপে ধরুন। কিছুক্ষণ পরই দেখবেন গাঢ় ভাব আর নেই।
৩. লিপস্টিক ব্যবহারের পর রুমাল দিয়ে ঘষে মুছবেন না। এতে ঠোঁটের সূক্ষ্ম চামড়া ছিঁড়তে পারে।
৪. লিপস্টিকের রং খুব হালকা করতে চাইলে লিপস্টিকের উপর সামান্য ভেসলিন ব্যবহার করুন।
৫. ক্যাডমিয়াম, অ্যালুমিনিয়ামসহ কয়েক ধরনের ধাতুর মিশ্রণে তৈরি হয় লিপস্টিক। যা শরীরের বিপাকক্রিয়া ও অম্লের সঙ্গে মিশে বিষাক্ত হয়। খাবার খাওয়ার সময় লিপস্টিকে থাকা বিষাক্ত উপাদান চলে যায় পেটে। যার ফল হতে পারে মারাত্মক। তাই খাওয়ার সময় লিপস্টিক ব্যবহার না করাই ভালো।
৬. ব্যবহৃত লিপস্টিকের মেয়াদ আছে কিনা দেখে নিন। মেয়াদহীন লিপস্টিক দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।
৭. কাপড়ে লাগা লিপস্টিকে দাগ তুলতে ব্যবহার করতে পারেন শেভিং ক্রিম। কাপড়ের যে স্থানে দাগ লেগেছে, সেখানে সামান্য শেভিং ক্রিম লাগিয়ে স্ক্রাব করলেই উঠে যাবে।
গাঢ় লিপস্টিক ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি যেসব অভ্যাস থেকে বিরত থাকবেন-
>ঠোঁট কামড়ানো বা চাটা
ঠোঁট শুষ্ক হয়ে গেলেও কালো ছোপ পড়তে পারে। আবহাওয়ায় আর্দ্রতার অভাবে ঠোঁট শুকিয়ে গেলে, জিহ্বা দিয়ে বারবার ঠোঁট চাটা বা ঠোঁট কামড়ালেও দাগ হতে পারে।
> ধূমপান
যারা নিয়মিত ধূমপান করেন, তাদের ঠোঁট কালো হয়ে যায়। সিগারেটে থাকা নিকোটিন ঠোঁটের ত্বকে, রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটায়। তার প্রভাবেই ঠোঁটের ওপর কালচে ছাপ পড়ে।