ছবি: সংগৃহীত
অনেকের ধারণা, মেয়েদের খানিকটা রক্তশূন্যতা সব সময়ই থাকে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু ধারণাটা ঠিক নয়। এ কথা ঠিক, নারীদের স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পুরুষদের স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম। পুরুষের রক্তের হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ১৩.৫ থেকে ১৭.৫ গ্রাম। নারীদের রক্তে তা ১২ থেকে ১৫.৫ গ্রাম। কিন্তু এই মাত্রার চেয়ে কম হিমোগ্লোবিন থাকা স্বাভাবিক নয়।
রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা
পুরুষ
১৩.৫–১৭.৫ গ্রাম/ডেসিলিটার
নারী
১২–১৫.৫ গ্রাম/ডেসিলিটার
হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের নিচে (১২ গ্রাম/ডেলি) থাকা মানেই এনিমিয়া বা রক্তশূন্যতা। এ সমস্যার প্রতিকার দরকার।
নারীর শারীরিক সুস্থতা ও কর্মোদ্দীপনা বজায় রাখার জন্য আয়রনের ভূমিকা অনেক। এই উপাদানের অভাবে দুর্বলতা, মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা, শ্বাস প্রশ্বাসের ত্রুটি ইত্যাদি দেখা দেয়।
এছাড়া কাজে অমনোযোগ, অনাগ্রহ ও মেজাজ খিটমিটে হতে পারে। তাই ছোট থেকেই কন্যা শিশুর যেন আয়রনের ঘাটতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর একজন সুস্থ নারী হওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ আয়রণ গ্রহণ করাও প্রয়োজন।
উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে আয়রন গ্রহণ করার জন্য কলা, কচুশাক, বিভিন্ন ধরনের কচু, পালংশাক, মটরজাতীয় খাবার, রঙিন ফলমূল ইত্যাদি রয়েছে।
প্রানিজ আরনের মধ্যে রয়েছে যকৃৎ, মাংস, মাছ, ডিম ইত্যাদি খাবার আয়রনের ভালো উৎস। তাছাড়া দুধ, ডাল ও শস্যজাতীয় খাবার শরীরের আয়রনের চাহিদা পূরণ করতে সাহায্য করে।
মাসিকের সময়ে আয়রন খাওয়া জরুরি। গর্ভধারণ করলে শারীরিক ও হরমোন পরিবর্তনের কারণে স্বাভাবিক নিয়মেই আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়। তাই এই সময়ে বেশি পরিমাণে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।
গর্ভাবস্থায় প্রথম তিনমাসের পর থেকে আয়রন খেতে পারেন। তাছাড়া যে কোনো নারীর আয়রনের ঘাটতি পূরণ করার জন্য এক টানা তিন মাস আয়রনের ট্যাবলেট খাওয়াই যথেষ্ট।
রাতে আয়রনের ট্যাবলেট না খেয়ে সকালে খালি পেটে খাওয়া ভালো। এতে ট্যাবলেট সহজে শোষিত হয়।
অনেকের জন্য আয়রনের ট্যাবলেট খেলে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।