ফ্রেন্স কিস-এ করোনার ভয় নেই, তবে…..

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ৫, ২০২১, ০৫:১২ পিএম

ফ্রেন্স কিস-এ করোনার ভয় নেই, তবে…..

দ্বিতীয় ঢেউয়ে সারবিশ্বে চলছে করোনার তাণ্ডব। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্নে দেশে লকডাউন বা কঠোর স্বাস্থ্যবিধি জারি করা হয়েছে। দেশে দেশে প্রয়োগ চলছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন। তারপরও এই করোনাকালে প্রেমিক-প্রেমিকাদের আড্ডা বা একান্তে সময় কাটানো থেমে নেই্। এসময় ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাতে তারা পরস্পরকে চুমু খায়। তবে ফ্রেন্স কিস বা ফরাসি চুম্বন খাওয়া থেকে আপাতত বিরত থাকাই ভাল। এই  ধরণের  চুম্বনে করোনা সংক্রমণের  সম্ভাবনা না থাকলেও একজন যদি আক্রান্ত হন, তাহলে অন্যজনও আক্রান্ত হবেন নিঃসন্দেহে।

ইংরেজি ও হিন্দি সিনেমায় আমরা প্রায়ই চুম্বনদৃশ্য দেখি। এই চুমু খাওয়ার ব্যাপারাটি আবার বিভিন্নভাবে হতে পারে। বাবা-মা বা দাদা-দাদির জন্য বা ছোট বাচ্চাদের আদর করে চুমু খাওয়ার ধরন একরকমা। আবার প্রেমিক প্রেমিকাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় ধরে অত্যন্ত আবেগঘন গভীর চুম্বনও দেখা যায়। আর এটাই ফ্রেন্স কিস বা ফরাসি চুম্বন।

ফ্রেঞ্চ কিস বা ফরাসি চুম্বনকে এখনও পর্যন্ত বিশ্বের সেরা চুমু হিসেবেই ধরা হয়। এই চুমু খাওয়ার সময় একে অপরে মুখের ভিতর ঠোঁট, জিভ গভীরভাবে প্রবেশ করে। অনেক্ষণ সময় নিয়ে এই চুমু খেতে হয়। এই চুমু খাওয়ার সময় শরীরে শিহরণ তো জাগেই সঙ্গে আবেগ বাড়তে থাকে প্রতি মুহূর্তে। তবে গভীরভাবে চুমু খেতে গেলে একে অপরের লালারস আদান প্রদান হবেই। আর অনেকে এর থেকেই রোগের আশঙ্কা করে থাকেন।

চুমুতে শরীর ভাল থাকে

আপাত দৃষ্টিতে ফ্রেঞ্চ কিস থেকে রোগ সংক্রমণের কোনও ভয় থাকে না। বরং এতে মন ভালো হয়ে যায়। তবে লালারস থেকে সরাসরি যেসব সংক্রমণ হয় দুজনের মধ্যে একজনের তা থাকলে অপরজনের মধ্যে তা অনায়াসেই সংক্রমিত হয়।মুখের ইনফেকশন এবং সর্বোপরি করোনা সংক্রমণ হতে পারে ফ্রেঞ্চ কিস করলে।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টাইমসের  এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রেঞ্চ কিস থেকে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের (এইচপিভি) সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। আর তা থেকে হিউম্যান ইম্মিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (এইআইভি) বা হেপাটাইটিস বি-র মতো রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনাও থাকে।

যেমন ধরুন কোনও সংক্রমিত রোগীকে চুমু খেতে গিয়ে দাঁতের কামড়ে উভয়ের ঠোঁটে কেটে গেলে সামান্য হলে রোগ সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

যাঁদের অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজওর্ডার সমস্যা আছে তাঁরা ফ্রেঞ্চ কিসের পর উদ্বেগে ভোগেন। দুজনের মধ্যে একজনের ফ্রেঞ্চ কিসে অনীহা থাকলে সম্পর্কে তার কুপ্রভাব পড়তে পারে।

সাবধানতা অবলম্বন

করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা না থাকলেও ফ্রেঞ্চ কিস করার সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

চুমু খাওয়ার আগে মুখের ভিতরের পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সজাগ থাকুন। মনে রাখবেন চুমু খাওয়ার সময় মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে সঙ্গী হাতা ছাড়া হয়ে যেতে পারে।

মুখে ইনফেকশন থাকলে গাফিলতি না করে চিকিৎসা করান। চেষ্টা করুন মুখে রোগ সাড়িয়ে তারপর সঙ্গীকে চুমুকে ভরিয়ে তোলার।

ফ্রেঞ্চ কিস করার আগে এমন কিছু খাবেন না যা থেকে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।

অনেকে চুমু খাওয়ার আগে মুঘে সুগন্ধি মুখশুদ্ধি খেয়ে নেন। তবে সমীক্ষা বলছে চুমুর সময় স্বাভাবিক মুখ থাকলেই সঙ্গী বা সঙ্গিনী স্বস্তি পান।

OCD-র সমস্যা থাকলেও চুমু খাওয়ার পর সঙ্গীর বা সঙ্গিনীর সামনেই মুখ ধুতে শুরু করে দেবেন না।তাই সাবধানে চুমু খান এবং শরীর এবং মনকে সুস্থ রাখুন।

Link copied!