বিশ্বায়নের এই নাগরিক জীবনে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের স্বল্পতা,দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা প্রভৃতি কারণেই ওজন বেড়ে যেতে পারে। তবে তাই বলে তো আর বাড়তি ওজন পুষে রাখা যাবেনা। অনেকে বলেন সফল হওয়ার কোনও শর্টকাট রাস্তা নেই। বাড়তি মেদ ঝড়ানোর ক্ষেত্রে একথাটা আরও বহুগুণ কার্যকরী।
জীবনযাত্রার ধরন, জিনগত বৈশিষ্ট্য হত্যাদি অনেকগুলো অনুঘটকের উপর মেদ ঝড়ানোর হার ও সময় নির্ভর করে। নিয়মিত ব্যায়াম আর শরীরকে চাহিদার থেকে কম ক্যালোরি দিলে ওজন কমতে পারে। মাসে ২-৩ কেজি ওজন কমানো বিজ্ঞানসম্মত। অবশ্য সেটা না হলে দুনিয়া শেষ, এমনটা ভাবারও কোনও কারণ নেই।
ওজন কমানোর জন্য ৩টি পদ্ধতি বেছে নিন।
১) শরীরচর্চা বা এক্সারসাইজ।
২) খাদ্যাভাস।
৩) মানসিক চাপ এড়িয়ে যাওয়া।
১) শরীরচর্চা বা এক্সারসাইজ
এক্সারসাইজ বাছা: ১০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত ব্যায়াম করেন। তারা জানেন কী করতে হবে। ৯০ শতাংশ মানুষ দৌড়ঝাঁপবিহীন জীবনযাপন করেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদেরই ওজন বেড়ে যায়। তারা অনেকেই হাঁটা ছাড়া কিছু করেন না। মনে রাখতে হবে, ডামবেল বা ভারী ওজন নিয়ে শরীরচর্চা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরী। নারী-পুরুষ যে কেউই এ ভাবে ব্যায়াম করলে, তাদের পেশির তন্তু প্রস্থে বাড়ে। শরীরের বিপাকের হাড় বাড়ে। শরীর প্রচুর ক্যালোরি খরচ করে।
ওজন নিয়ে কয়েকটা ব্যায়াম
ডামবেল স্কোয়াট
ডামবেল সেট আপ
পুশ আপ
ডামবেল রোয়িং
কার্ডিও (হাটা, জগিং বা দৌড়)
২:১ অনুপাতে জোড়ে হাঁটা আর আস্তে হাঁটা অভ্যাস করতে হবে। ২০-২৫ মিনিট হাঁটুতে ব্যান্ড লাগিয়ে জামপিং জ্যাক করতে হবে।
২) খাদ্যাভাস
যাদের ওজন বেশির দিকে, তাদের বেশির ভাগই দিনে ৩ বার খান। অল্প করে বার বার খেলে বিপাকের হার বেড়ে যায়। চর্বি বা স্নেহজাতীয় পদ বাদ দিয়ে শুধু প্রোটিন খান। শর্করা একদম বাতিল করা উচিত নয়। কারও কারও এতে সমস্যা হয়।
খাবারের ধরন কেমন হবে, সে সম্পর্কে একটা ধারণা দেওয়া যাক।
খুব সকালে কাঠবাদামের মতো শুকনো ফল। প্রাতরাশে ডিমের সাদা অংশ, ওটস, একটা কলা। মাঝ সকালে আপেলের অর্ধেক। দুপুরে অল্প ভাত বা ২টো রুটি, মুরগির হালকা ঝোল, তরকারি আর টক দই। বিকেলে মুড়ি আর ভেজানো ছোলা। সন্ধ্যায় এক কাপ চা। রাতে ২টি রুটি, সঙ্গে তরকারি বা মুরগির মাংস আর স্যালাড।
৩) মানসিক চাপ এড়িয়ে যাবেন কী করে?
মানসিক চাপ থাকলে স্ট্রেস হরমোনে কোর্টিসলের বেশি ক্ষরণ হয়। খাবার ভাঙার প্রক্রিয়া বাধা পায়। ওজন কমতে চায় না।
এটা কাটিয়ে উঠতে ইযারফোন লাগিয়ে এক্সাসাইজ করতে পারেন। খোলা জায়গায় সূর্যের আলোতে এক্সাসাইজ করুন। ফ্ল্যাটের বারান্দা, ছাদে এক্সারসাইজ করতে পারেন। সেরোটোনিন নামের মুড হরমোনের মাত্রা বাড়বে তাতে। ভারী খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা বাদে হাঁটুন। হাঁটতে হাঁটতে লম্বা শ্বাস নিন আর ছারুন। সমাজসেবামূলক কাজে হাত লাগান।
সূত্র: আনন্দবাজার।