ভূমধ্যসাগরের দ্বীপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষুদ্রতম ধনী দেশ মাল্টা। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় শ্রম বাজার হওয়ার কথা থাকলেও ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার ও দূতাবাসের কূটনৈতিক অদক্ষতার কারণে তা হচ্ছে না বলে মনে করেন অনেকে।
মাল্টা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষুদ্রতম অথচ ধনী দেশ। এক সময় এই দ্বীপদেশটি বৃটিশ কলোনী ছিলো। দেশটির জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ লাখের মতো। লেবার দলীয় সরকার দেশ পরিচালনা করছে বর্তমানে। ভূমধ্যসাগর বেষ্ঠিত এই দেশে অবৈধপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাখো টাকা খরচ করে বাংলাদেশীরা আসতে চান। তাঁরা নৌ পথে ছোট ছোট রাবারের নৌকায় করে দ্বীপদেশটিতে ঢুকতে চান। শুধু বাংলাদেশীরাই নয়, বহু বিদেশীরাও আসতে চেষ্টা করেন। এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় অনেকেরই সলিল সনাধি ঘটে সমুদ্রের নীল জলের অতলে।
যাঁরাও বা সাগরকিনারে ভিড়তে পারেন তাদের অনেকেরই কপালে জোটে জেল জুলুম জরিমানা। এরপর কপর্দকশূণ্য হয়ে দেশে ফিরে যেতে হয়। দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে দূতাবাস বা বাংলাদেশ সরকারের কিছু করার থাকে না। কারণ, ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি হয়েছে এই মর্মে যে, কেউ যদি ভুল তথ্য দেয় এখানে, মানে ইউরোপে এসে আর তা প্রমাণিত হলে তাঁকে ফেরত যেতে হবে। তাই কেউ এভাবে আসলে সঠিক তথ্য দেওয়া উচিত। আর একটি ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, তা হলো যদি মাল্টায় অবৈধভাবে এসে জেলে যান, সেইক্ষেত্রে সরকারি উকিলই আপনার হয়ে কাজ করবে।
মাল্টাতে কিছু দালাল রয়েছে যাঁরা জেলে থাকা ব্যাক্তির পরিবারকে বাংলাদেশে ফোন করে এবং তাঁরা জেল থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। সত্য বলতে কি, তাঁদের কিছু করার ক্ষমতা নাই। আইনই আপনাকে সহায়তা করে বা করবে। দুই চার জন যাঁরা মাল্টা থাকার পর ও যাঁরা বৈধভাবে আসেন, বেশিরভাগই মাল্টাকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যাবহার করে ইউরোপের অন্য দেশে চলে যান।
বর্তমানে মাল্টায় বসবাস করছেন প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশী। তাঁরা বলছেন, তাঁরা ভালো আছেন। দেশটিতে শ্রমজীবিদের পাশাপাশি রয়েছেন ছাত্র ও ব্যবসায়ীরা। যদিও তাঁদের সংখ্যা কম। নারী শ্রমিক ইশরাত, আবদুস সালাম, আমানউল্লাহ আমান, গৃহিনী সাবিনা ইয়াসমিন, ব্যবসায়ী রাজিবের সাথে কথা হয়। কথা হলো মাল্টা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যাবসায়ী কাওসার আমিন হাওলাদারসহ আরও অনেকের সাথে। তাঁরা বললেন, প্রবাসীদের অজ্ঞতা ও দূতাবাসের অদক্ষতার কারণে এই শ্রম বাজার তৈরি হচ্ছ না। অথচ এখানে শ্রমবাজারের অপার সম্তভাবনা রয়েছে।
এ অবস্থায় তাঁরা মাল্টায় একটি দূতাবাস বা মিশনের দাবি জানালেন।
অভিযোগের ব্যাপারে মাল্টার দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রীসের বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা খালিদ টেলিফোনে জানালেন, আমরা জরুরি হলে টেলিফোনে বা ইমেইলেও সেবা প্রদান করে থাকি। তিনি তাঁর দীর্ঘ আধা ঘন্টার টেলিফোন আলাপে আরও বললেন, তাঁদের কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই আজ মাল্টায় বৈধভাবে শ্রমিক আসতে পারছে। যাঁরা আদম ব্যাবসা করেন, তাঁরা হয়তো অভিযোগ করতে পারেন। তিনি মশিউর নামে একজনের নামও উল্লেখ করে বলেন, দূতাবাস কর্মকর্তা মশিউরের অবৈধ আদম ব্যাবসা বন্ধ করতে কাজ করেছেন তাঁরা।

আমি মূলত জার্মানি থেকে মাল্টা এসেছিলাম এসব অবৈধভাবে আসা প্রবাসীদের নিয়ে রিপোর্ট করতে। এখানে বসবাসরত বাংলাদেশীরা সবাই খুব আন্তরিক। সবচেয়ে আকর্ষনীয় ও মজার ব্যাপার হলো, আমার এলাকার ভাই-চাচারা গত রাতে আমার সৌজন্যে দক্ষিণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী চালের রুটি ও গরুর মাংসের পার্টি দিয়েছিল। সাথে ছিল স্যামন ফিস ও লভস্টার। তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ। যাঁরা আমাদের আতিথেয়তা করলেন তাঁরা হলেণ, কাউসার আমিন হাওলাদার, সাবিনা ইয়াসমিন, আমান উল্লাহ, ছবির মৃধা, নাসির খান, মামুন হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, সেলিম হাওলাদার, আইয়ুব আকন। এদের আন্তরিকতার কথা ভুলব না।
মাল্টার আবহাওয়া নয়ন জুড়ানো, চমৎকার। যাঁর জন্য সারা বছর জুড়েই থাকে পর্যটকদের ভীড়। তবে সমতল নয়, পাহাড়ী জনপদই মাল্টার সৌন্দর্য্য। ভাষা মাল্টিস হলেও সবাই ভালো ইংলিশও বলে। সময় সুযোগ পেলে আবারও আসবো মাল্টা।